👁 430 Views

সুজানগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস : সেই চিরচেনা রূপ : অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় সেবা প্রত্যাশীরা

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : সেই চিরচেনা রূপ ! পাবনার সুজানগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের কারণে জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে সুজানগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার (খন্ডালীন) মো. ইউসুফ আলী, অফিস স্টাফ প্রবীর কুমার ও মশিউর রহমান সাগর এবং দলিল লেখক ইসমাইল হোসেন, তোরাব আলী, কামালসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এক শ্রেণির দালাল ও প্রভাবশালী ব্যক্তির দৌরাত্ম্যের অভিযোগও করেছেন সেবা প্রত্যাশীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রির সরকারি ফি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করার পরও দলিল সম্পাদনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। কথিত ওই অতিরিক্ত অর্থ না দিলে বিভিন্ন কাগজপত্রের ভুল-ত্রুটির কথা বলে দলিল আটকে রাখা কিংবা সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি করা হয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থ দিলে একই ধরনের কাগজপত্রে আর আপত্তি করা হয় না বলে অভিযোগ তাদের।
তাদের আরও অভিযোগ, কথিত সিন্ডিকেটের সম্মতি ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয় না। অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পরই দলিল সম্পাদনের অনুমতি মেলে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবা প্রত্যাশী।
এদিকে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তা বন্ধের দাবি জানিয়ে গত রোববার সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। সোমবার (১০ আগস্ট) অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রতি মাসে আদায় করা কথিত অতিরিক্ত অর্থ সাব-রেজিস্ট্রার ও কয়েকজন প্রভাবশালী দলিল লেখকের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়। এমনকি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তিও এ অর্থের ভাগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদকের কাছে কোনো স্বাধীন নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
অভিযোগকারীরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও এর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলিল লেখক সমিতির তৎকালীন সভাপতি ইসমাইল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ ও দলিল লেখক আব্দুল ওহাবের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ছিল। ২০২৪ সালের দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনে আবু হানিফ সভাপতি এবং কামাল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ওই কমিটির কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে আওয়ামীপন্থী দলিল লেখক ইসমাইল হোসেনসহ কয়েকজন এবং তোরাব আলী ও কামালসহ বিএনপিপন্থী কয়েকজন দলিল লেখক মিলেমিশে কথিত সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
এ ছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী ও অফিস স্টাফ মশিউর রহমান সাগরের বাড়ি বগুড়ায় হওয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে তারা অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন এমন অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে নেই।
সেবা প্রত্যাশীরা কথিত সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ডিজিটাল ফাইলিং ব্যবস্থা চালু এবং দলিল নিবন্ধনের সব সরকারি ফি ও সেবামূল্য প্রকাশ্যে প্রদর্শনের দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুজানগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলীসহ অভিযুক্ত অন্যরা তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন।
সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *