
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) থেকেঃ উত্তরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে গ্যাসলাইন সম্প্রসারণ, শিল্প-কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থানের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, শ্রমজীবী ও শিক্ষিত তরুণদের দাবি, উপজেলার মেরিরহাট এলাকায় থাকা গ্যাসলাইন থেকে মাত্র প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে পলাশবাড়ী। ওই লাইন সম্প্রসারণ করে স্থানীয় শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পলাশবাড়ীর আয়তন ১৮৫ দশমিক ৩৩ বর্গকিলোমিটার। ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও দীর্ঘদিনেও এখানে উল্লেখযোগ্য শিল্পায়ন গড়ে ওঠেনি। ফলে জীবিকার প্রয়োজনে অনেক মানুষ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পাড়ি জমাচ্ছেন। শিক্ষিত তরুণদের একটি অংশও স্থানীয় কর্মসংস্থানের অভাবে বেকার রয়েছেন।
স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মতে, গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, খাদ্যপ্রক্রিয়াজাতকরণ, ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।
পার্শ্ববর্তী গোবিন্দগঞ্জে ইপিজেড বাস্তবায়নের উদ্যোগকে ঘিরে পলাশবাড়ীতেও শিল্পায়নের প্রত্যাশা বেড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কর্মসংস্থানের সুযোগ না বাড়লে বেকারত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা মেরিরহাট থেকে পলাশবাড়ী পর্যন্ত গ্যাসলাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা ও পৌর প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিলে পলাশবাড়ীতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার খুলতে পারে।
স্থানীয়দের একটাই দাবি— “উত্তরের প্রবেশদ্বার পলাশবাড়ীকে আর পিছিয়ে নয়; মেরিরহাট থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার গ্যাসলাইন সম্প্রসারণ করে পলাশবাড়ীতে গ্যাস সংযোগ চাই।”