👁 78 Views

রাবার বাগানের শ্রমিক অপহরণের অভিযোগ, ভুলবশত তুলে নেওয়া ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয় সশস্ত্র গোষ্ঠী

নজরুল ইসলাম (লামা, বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ রবিবার (২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বান্দরবানের লামা উপজেলার ১ নম্বর গজালিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডিসি রোড এলাকায় একটি দোকান থেকে বিদ্যামনী ত্রিপুরা হাশেমের রাবার বাগানের এক শ্রমিক (টেপার)কে পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠী অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ভুলবশত একই এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেলকেও তুলে নেওয়া হলেও পরে পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে একটি চাঁদের গাড়িতে করে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ডিসি রোড এলাকায় আসে। তারা দোকান থেকে রাবার বাগানের শ্রমিককে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় মো. রুবেলকেও একই গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে কিছুদূর যাওয়ার পর তার পরিচয় নিশ্চিত হলে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
মো. রুবেল জানান, অপহরণকারীদের হাতে ভারী অস্ত্র ছিল এবং তাদের পরনে সবুজ বা ফ্যাকাশে রঙের পোশাক ছিল। তার দাবি, দলে আনুমানিক ১২ থেকে ১৩ জন সদস্য ছিল এবং তারা একটি চাঁদের গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে আসে।
ঘটনার বিষয়ে গজালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাজল হালদার বলেন, “আমরা লোকমুখে বিষয়টি শুনেছি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে কাজ করছি।”
সরই পুলিশ ফাঁড়ির কর্তব্যরত কর্মকর্তা শাহরিয়ার স্ট্যালিন জীবন বলেন, “সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে বর্ণিত চাঁদের গাড়িটি সরই কেয়াজুপাড়া বাজার অতিক্রম করে টংকাবতীর দিকে চলে গেছে। তবে বাজারে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। বিষয়টি নিয়ে আমরাও কাজ করছি।”
এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, “বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তবে ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে রাবার বাগানের মালিক বিদ্যামনী ত্রিপুরা হাশেমের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত তথ্য যাচাই এবং নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধানে কাজ চলছে। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে অপহরণের অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে; তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *