👁 354 Views

রড বোঝাই ট্রাক উল্টে টাঙ্গাইলে নিহত ১৫, নওগাঁর ১৩সহ নিহত১৬  

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ:  টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। এছাড়া নওগাঁয় পৃথক আরও দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে এক রাতে নওগাঁর ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুইজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

টাঙ্গাইলে নিহত নওগাঁর ১৩ জনের মধ্যে মান্দা উপজেলার ১০ জন হলেন, রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের সুলতানের ছেলে তারেক আলী, আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশা (৩০), রশিদুল ইসলামের ছেলে আব্দুল বারিক (২০), আকবর আলীর ছেলে সোহাগ আলী (৩৩), শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৮), হজরতের ছেলে মাইনুর রহমান (৩২), সাকিমুদ্দিনের ছেলে সাগর আলী (২০), পাকুড়িয়া নিচপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মায়নুল ইসলাম (২৫), গিয়াস উদ্দিন (২২) এবং মুর্শিদপুর গ্রামের সুজন আলী (৩৫)। এছাড়া নিয়ামতপুর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামের সাইদুলের ছেলে সারিকুল ইসলাম (২৫) নিহত হয়েছেন। আরও দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, মহাদেবপুর উপজেলার নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের পিড়ার মোড় এলাকায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী আলী জাকের (২২)। তিনি বদলগাছী উপজেলার গাবনা গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। এ ঘটনায় আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
পত্নীতলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, মহাদেবপুর উপজেলার সুজাইল এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু হাসান (৪৬) এবং ধামইরহাট উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার অছি উদ্দিনের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৪৫)।
এ দুই দুর্ঘটনায় মোট ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৬ জনই মান্দা উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন, ডেমরা গ্রামের মজিবরের ছেলে বাবু (৩৫), একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সমেজ, পাকুড়িয়া গ্রামের সফেদ আলীর ছেলে আলমগীর (৪০), একই গ্রামের ছোরহাব আলীর ছেলে সিদ্দিক আলী (৪০), রাজেন্দ্রবাড়ি গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে খোরশেদ (২৬) এবং হোসেনপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুল রহমান।
জানা গেছে, সোমবার (২৫ মে) ভোরে রডবোঝাই একটি ট্রাকে করে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরছিলেন। ভোর সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের ওপর থাকা যাত্রীরা চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন এবং ৮ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে টাঙ্গাইল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজে মহাসড়ক পুলিশ, এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।
এদিকে, পত্নীতলার দুর্ঘটনায় একটি অটোরিকশা নজিপুর থেকে ধামইরহাট উপজেলার ফতেপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ড্রাম ট্রাক অটোরিকশাটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই চালক আবু হাসান ও যাত্রী তরিকুল ইসলাম নিহত হন।
দুর্ঘটনাগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট তিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *