
এ কে এম আব্দুল্লাহ, নেত্রকোনাঃ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম রুহী বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে বিরোধী মত দমনে কী পরিমাণ গুম ও ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্পষ্ট করতে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন
(র্যাব) উত্তরা হেডকোয়ার্টারে অবস্থিত ‘আয়নাঘর’ ও টর্চার সেলসহ প্রত্যেকটা আয়নাঘর দ্রুত বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও মানবাধিকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সরেজমিনে দেখানো জরুরি। একই সঙ্গে তিনি আয়নাঘরের অপকর্মের প্রমাণ লুকাতে আলামত নষ্টের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
আজ রবিবার (২রা আগষ্ট)
বিকেলে নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার রামপুর দশাল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজী আব্দুর রহীম রুহী বলেন, “তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের কাছে ধর্ণা দিয়েছিল। বিগত সরকার বিরোধী দলের ওপর কতটা ভয়ংকর ও নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, তা সরাসরি না দেখলে অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নাও হতে পারে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত বিদেশি কূটনীতিকদের ডেকে এনে এসব টর্চার সেল দেখানো, যাতে তারা বাস্তব চিত্র অনুধাবন করতে পারেন।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, আয়নাঘরের মূল চেহারা আড়াল করতে এবং সত্য ঢাকা দিতে যারা এর আলামত নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বা জড়িত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি মাদক নির্মূলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হওয়ার অনুরোধ জানান।
সাহ্তা ইউনিয়ন খেলাফত আন্দোলনের উদ্যোগে মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা তৈরি এবং ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে’র শহীদদের স্মরণে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সাহতা ইউনিয়ন খেলাফত আন্দোলনের উপদেষ্টা
মাওলানা বেলায়েত হোসেন এর সভাপতিত্বে মাওলানা তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খেলাফত আন্দোলনের নেত্রকোণা জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আবুল কাশেম, বারহাট্টা উপজেলার সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুস সালাম, বারহাট্টা থানার সেকেন্ড অফিসার মুহাম্মাদ শফিকুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।