
এম সাজেদুল ইসলাম সাগর, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ; দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন উপলক্ষে রোপিত (কাঞ্চন ও নিম) চারাগাছ সংরক্ষণের জন্য ঘেরা নির্মাণের কথা বলে বন বিভাগের নবাবগঞ্জ বিট অফিসে সংরক্ষিত সাতটি শালগাছের গোলাই ভ্যানে করে করাতকলে নেওয়ার প্রস্তুতির ঘটনায় দেখা দিয়েছে বিতর্ক। একই ঘটনায় বন বিভাগের দুই কর্মচারী ও বিট কর্মকর্তার বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
১ আগস্ট (শনিবার) দুপুরে নবাবগঞ্জ বিট অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঐ অফিসে সংরক্ষিত সাতটি শালগাছের গোলাই একটি ভ্যানে তুলে করাতকলে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ সময় বিট অফিসের কর্মচারী মোঃ এরশাদুল ইসলাম ও মোঃ জসিম উদ্দিনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানান, বৃক্ষমেলার উদ্বোধন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে রোপণ করা দুটি চারাগাছের সুরক্ষা ঘেরা তৈরির জন্য খুঁটি বানাতে কাঠগুলো করাতকলে নেওয়া হচ্ছিল।
তবে সরেজমিনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, রোপণের পরপরই চারাগাছ দুটি ঘেরা দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে নতুন করে ঘেরা তৈরির জন্য শালগাছের কাঠ করাতকলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চারাগাছের ঘেরা নির্মাণের জন্য কাউকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে নবাবগঞ্জ ফরেস্ট ডেপুটি রেঞ্জার মোঃ সুলতান মাহমুদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, কাঠগুলো শুধু গাছের ঘেরা তৈরির জন্য নয়, বিট অফিসের পাহারাদারের চৌকি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটি মেরামত বা নতুন করে তৈরির কাজেও ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে করাতকলে নেওয়া হচ্ছিল।
সংরক্ষিত শালগাছের কাঠ এভাবে ঘেরা বা অফিসের চৌকি তৈরির কাজে ব্যবহার করা বিধিসম্মত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, “না, এটি বিধিসম্মত নয়।”
এ বিষয়ে বিরামপুর চরকাই ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি উপজেলা চত্ত্বরে রোপিত গাছ সুরক্ষার জন্য বাঁশের বেড়া দেওয়ার জন্য আমার কর্মচারীদের বলেছি।
একই ঘটনায় বন বিভাগের কর্মচারীদের বক্তব্য, ফরেস্ট ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তার ব্যাখ্যা এবং সরেজমিনে পাওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সংরক্ষিত সরকারি শালগাছের কাঠ কী উদ্দেশ্যে এবং কার অনুমতিতে করাতকলে নেওয়া হচ্ছিল, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।