
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলার সুফিয়া বাজার জামে মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে মসজিদের বর্তমান কমিটির লোকজনের মারধরের ঘটনায় এক নারী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ে এলাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সংঘাত এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এদিকে শুক্রবার জুমার নামাজের পর নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দুপক্ষ বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে বর্তমান কমিটির লোকজন মুসল্লিদের ওপর অর্তকিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় শিরিনা খাতুন (৪৫) নামে এক নারী আহত হন। তিনি চেরাগপুর গ্রামের বাসিন্দা। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময়ে তারা মসজিদের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব মুসল্লিদের কাছে উপস্থাপন না করে টালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করে চলেছেন । এতে করে মসজিদের উন্নয়ন কাজও থমকে আছে।
মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে হিসাব চাওয়া হলেও বর্তমান কমিটি তা দেয়নি। এতে মুসল্লিদের মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ২৫ এপ্রিল মুসল্লিদের একাংশ নতুন কমিটি গঠন করেন।
নতুন কমিটিতে সেলিম রেজাকে সভাপতি, আব্দুর রাজ্জাককে সেক্রেটারি এবং আব্দুল বারীকে ক্যাশিয়ার করা হয়। নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আহত শিরিনা খাতুন নতুন কমিটির পক্ষের লোক। তিনি আহত হওয়ার পর থেকেই এ পক্ষের লোকজনের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এসব বিষয় নিয়ে যে কোনো সময় আবারও সংঘর্ষ হতে পারে।
নতুন কমিটির সভাপতি সেলিম রেজা অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুরাতন কমিটির লোকজন নামাজের আগেই মসজিদের ভেতরে লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেয় এবং নামাজ শেষে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মসজিদের প্বার্শবর্তী বাসিন্দা শিরিনা খাতুন আহত হন।
এ বিষয়ে পুরাতন কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্তদের একজন আকবর আলী বলেন, মসজিদের মুসল্লিদের না জানিয়ে সেলিম রেজা গোপনে আরেকটি কমিটি গঠন করেছে। এনিয়ে জুমার নামাজের পর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, ঘটনাটির বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।