
পটুয়াখালী প্রতিনিধি।। দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘের সৃষ্টি অব্যাহত থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৭টা পর্যন্ত জেলার কলাপাড়ায় ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় থেমে থেমে ঝড়ো বাতাস বইছে এবং কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ বিক্ষুব্ধ রয়েছে। সমুদ্র তীরে ছোট-বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীসহ দেশের ১৬ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে দুপুর ১টা পর্যন্ত নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মাছধরা ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানো, বজ্রপাত এবং বাতাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই রাঙ্গাবালী উপজেলায় বজ্রপাতে জেলা পরিষদের চারতলা বিশিষ্ট ডাকবাংলোর ছাদের সিঁড়িঘরের প্যারাপেট দেয়ালের একটি অংশ ভেঙে গেছে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দের পর বজ্রপাতের আঘাতে দেয়ালের একটি অংশ নিচে পড়ে যায় এবং অবশিষ্ট অংশে ফাটল দেখা দেয়। একই সঙ্গে ভবনের দুটি থাই গ্লাস ভেঙে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তারা ভবনের ভেতরে ছিলেন এবং বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি দেখতে পান।
পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুল হাসান সোহেল জানান, বর্তমানে বজ্রপাত একটি গুরুতর প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। খুব শিগগিরই রাঙ্গাবালীর ডাকবাংলোসহ জেলার অন্যান্য ডাকবাংলোতে বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।