
সঞ্জয় ব্যানার্জী, পটুয়াখালী প্রতিনিধি।।এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে গ্রামগঞ্জের ভোটারদের একটি বড় অংশ এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো অন্ধকারে রয়েছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, গণভোটের প্রকৃতি উদ্দেশ্য বা ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের প্রভাব সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো স্পষ্ট বার্তা পৌঁছায়নি।
সরেজমিনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত গ্রাম ঘুরে সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এমপি(সংসদ সদস্য)নির্বাচনের বিষয়ে অবগত থাকলেও এবছরের গণখোটের বিষয়টি তাদের কাছে অনেকটাই অজানা।
বিশেষ করে নারী ভোটার ও বয়োজেষ্ঠদের মধ্যে গণভোট নিয়ে ধারনার অভাব স্পষ্ট। ব্যালট পেপারে (এমপি) সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের জন্য আলাদা একটি ব্যালট থাকবে এবং সেখানে ‘হ্যাঁ ও না’ এই দুটি অপশনের কাজ কি সে সম্পর্কে তারা কিছুই জানেনা।
যদিও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত এবং গুরুত্বপূর্নস্থানে ব্যানার ফেস্টুন টাঙ্গিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে এই প্রচার শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রাম পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছে তা কার্যকর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। সরকারিভাবে প্রচারণার দাবী করা হলেও সাধারন মানুষের মতে গণভোটের উপকারীতা বা অপকারীতা নিয়ে তৃনমূল পর্যায়ে কোনো উঠান বৈঠক বা প্রত্যক্ষ লক্ষ্য করা যায়নি।
উল্লেখ্য যে, এবারের গণভোটে অন্তর্বর্তী কালীন সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহ তাদের সমমানা রাজনৈতিক জোটগুলোও এই ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রতি পূর্ন সমর্থন জানিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, প্রচারণার এই ঘাটতির কারণে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন। তাদের মতে, সঠিক বার্তা তৃণমূল ভোটারদের কাছে না পৌঁছালে ভোটের দিন গণভোটের ব্যালট পেপারে মতামত প্রদান থেকে অনেকেই বিরত থাকতে পারেন, যা পুরো প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নির্বাচনের আগে বাকি দিনগুলোতে ভোটারদের মধ্যে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ও নিয়মাবলী নিয়ে জোরালো জনসচেতনতা তৈরির তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবিষয়ে সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার প্রচারনা চলমান রয়েছে।##