👁 381 Views

ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর  : মানবপাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বাংলাদেশি মামুন

ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুন (৩৯) মঙ্গলবার টেক্সাসের লারেডোতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির হন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, আল-মামুন এবং তার দুই সহঅভিযুক্ত মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৬) ও মোক্তার হোসেন (৩৮) দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকো হয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশে সহায়তা করতেন।
অভিযোগে বলা হয়, আল-মামুন ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অভিবাসীদের আশ্রয় দিয়ে তাদের যাত্রার ব্যবস্থা করতেন। মোহাম্মদ মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় তাদের রাখতেন এবং মন্টেরেতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতেন। এরপর মোক্তার হোসেন মন্টেরেতে তাদের আশ্রয় দিয়ে কীভাবে রিও গ্র্যান্ডে নদী পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতেন। এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রম করতে গিয়ে অনেক অভিবাসী বিপদের মুখে পড়েন।
তদন্তে আরও জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশে অবস্থানরত দালালদের কাছে অনেক অভিবাসী কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করেছিলেন। আল-মামুনকে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন দোষ স্বীকার করে প্রত্যেকে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড পান।
আল-মামুনের বিরুদ্ধে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা, এ কাজে ষড়যন্ত্র এবং অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অভিবাসী পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার ন্যূনতম ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
মামলাটি তদন্ত করছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (এইচএসআই), যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ব্রাজিল থেকে আল-মামুনকে প্রত্যর্পণে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
প্রসিকিউটররা জানান, এটি একটি অভিযোগপত্র মাত্র। আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আল-মামুন আইনগতভাবে নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *