👁 158 Views

চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক, হটস্পট ৯ ওয়ার্ড, হাসপাতালে শয্যা সংকট

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ  আক্রান্ত ২ হাজার ৩১৩, মৃত্যু ১৩  চমেকের এক বেডে দুই শিশু, পরীক্ষার কিট না থাকায় নমুনা যাচ্ছে ঢাকায় চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোগীর চাপে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ৫০ শয্যার ওয়ার্ডে বর্তমানে ৮০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি শয্যায় দুই শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নগরীর ৯টি ওয়ার্ডকে হামের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১১৬ জন রোগী। তাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু হলেও কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্কও রয়েছেন। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের হাম ওয়ার্ড ও শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ৭ জুন(রবিবার) বিকেলে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, নিচতলার হাম ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় অনেক বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। গরম ও সংকীর্ণ পরিবেশে শিশুদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অভিভাবকরা। অন্যদিকে দোতলার ৯ নম্বর শিশু ওয়ার্ডেও হাম সন্দেহে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা চলছে। যাদের অবস্থা তুলনামূলক জটিল, তাদের অক্সিজেন ও স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সাড়ে চার বছর বয়সী তাসফিয়া আক্তারের বাবা মো. রুমান বলেন, মেয়ের শরীরে হঠাৎ র‍্যাশ, জ্বর ও কাশি দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এখন কিছুটা সুস্থ হলেও এক শয্যায় দুই শিশুকে রাখতে কষ্ট হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ১১৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় কোনো কোনো শয্যায় একসঙ্গে দুই শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এছাড়া ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী ছয়জন প্রাপ্তবয়স্কও আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকি একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকও রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হামে আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি চলছে। চট্টগ্রাম নগরীর ৯টি ওয়ার্ডকে হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো— জালালাবাদ, চান্দগাঁও, উত্তর পাহাড়তলী, লালখান বাজার, পূর্ব বাকলিয়া, আলকরণ, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর ও উত্তর পতেঙ্গা।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩১৩ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মহানগরে ২ হাজার ২১৫ জন এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৯৮ জন। হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন উপসর্গ নিয়ে এবং তিনজন পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা যান।
এদিকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও চট্টগ্রামে হাম শনাক্তের কার্যকর পরীক্ষার ব্যবস্থা এখনও চালু হয়নি। রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজলস-রুবেলা ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে। ফলে রিপোর্ট পেতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগছে।
ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-এ হাম পরীক্ষার সক্ষমতা থাকলেও কিট সংকট ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাবে পরীক্ষা শুরু করা যাচ্ছে না।
বিআইটিআইডির অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশীদ বলেন, তাদের ল্যাবরেটরিতে হাম শনাক্তের পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। তবে হাম-রুবেলা পরীক্ষার কিট না থাকায় পরীক্ষা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। কিট ও অনুমোদন পেলে দ্রুত পরীক্ষা শুরু করা যাবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত হওয়ায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *