
সঞ্জয় ব্যানার্জী, পটুয়াখালী প্রতিনিধি।। ২২ দিনের নিষেজ্ঞার ১৬ দিনেও সরকারি প্রণোদনার চাল পায়নি পটুয়াখালীর দশমিনা সদর ইউনিয়নের ২ হাজার ৭৭৫ জন জেলে। উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে এখনো চাল পায়নি জেলেরা। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে জেলেদের।
অণ্যদিকে নিবন্ধনের আওতায় আসতে না পারায় আবার অনেক জেলেরা প্রণোদনার চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, নিবদ্ধিত জেলেদের শিগগিরই চাল পৌঁছে দেওয় হবে।
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ যাতে অবাধে ডিম ছাড়তে পারে সেজন্য ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরায় নিষেজ্ঞা চলছে। আইন অমান্য কওে যারা মাছ শিকার করছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বেকার জেলেদের সংসার নির্বাহের জন্য মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনা হিসেবে বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে জেলে প্রতি ২৫ কেজি চাল। কিন্তু সেই চাল না পেয়ে পেটের দায়ে নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবী করছেন জেলেরা।
জেলেরা বলছেন, ২২ দিন আয় রোজগার না থাকার পাশাপাশি সময়মতো সরকারের প্রণোদনা না পাওয়ায় দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে তাদের জীবন।
জেলেদের অভিযোগ, শুধু এবারই নয় প্রতিবছরই স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং মৎস্য বিভাগের উদাসীনতার কারনে তারা সঠিক সময়ে চাল পান না। মাছ ধরা ছাড়া অণ্য কোন কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রতি বছরই তাদের এমন দুর্বিষহ কষ্টে পড়তে হয়। সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমন পরিণতি হতো না।
দশমিনা সদর ইউনিয়নের একাধিক জেলে বলেন, অনেকদিন ধরে অভিযান চলছে। সরকার আমাদেরকে কোন সাহায্যে সহযোগীতা করেনি। কোন চাল বা কিছুই দেয়নি। তাই আমরা খুব অভাবে আছি। সরকার চাউল দিলেও তো আমরা ভাত খাইতে পারি।
তবে হাজীর হাট এলকার জেলেরা জানান, সরকার ২২ দিনের যে অভিযান দিছে, এই অভিযানের আগেই চাউল দিলে আমাদের অনেক ভালো হইতে। চাউল তো দিলে না। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে এখন না খেয়ে মরা ছাড়া কোন উপায় নেই। এছাড়া ্ঋনের কিস্তি তো আছেই। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু দৃষ্টি দিতে তাহলে ভালো হইতো।
এবিষয়ে দশমিনা সদর ইউনিয় পরিসদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন. জেলে তালিকার হাল নাগাদ ও শারদীয় ছুটির কারনে জেলেদের চাল বিতণে একটু বিলম্ভ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আশা করছি দুই একদিনের মধ্যে জেলেদেও মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে।
এবিষয়ে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহামুদ হাসান মৃধা জানান, সদও ইউনিয়ন পরিষদেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে একাধিকবার চাল বিতরণের কথা বলেছি। কিন্তু তিনি তালিকা হাল নাগাদ করতে বিলম্ভের কথা আমাকে জানিয়েছেন। তবে রোববার চাল বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।