👁 438 Views

মেলান্দহের মাহমুদপুরে জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

মেলান্দহ (জামালপুর) প্রতিনিধি : মেলান্দহের মাহমুদপুরে আবাদী জমি দখল করে জোর পূর্বক ঘর তোলার অভিযোগ উঠেছে আব্দুস সাত্তার নামে স্থানীয় এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে মাহমুদপুর আব্দুল জলিল কারিগলি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তার ওই এলাকার মিজানুর রহমান মিরেজ এর ছেলে। এঘটনায় ন্যায় বিচার দাবী করেছেন ভুক্তভোগী মাসুদুর রহমানসহ জমির অন্যান্য মালিকগন।

ভুক্তভোগী মাসুদুর রহমান জানান, সি. এস ৮২নং খতিয়ান ভুক্ত জমির মূল মালিক ছিলেন নঙ্কর আকন্দের পুত্র আব্দুল আকন্দ। জমিদারের খাজনা বকেয়া থাকায় তিনি জমি ইস্তফা দেন এবং জমিদার বজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী তা খাস দখলে নিয়ে নেন। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ছয়জন নাবালক এনামুল হক, এমদাদুল হক, আব্দুর রাজ্জাক ওরফে খোকা মিয়া, মতিউর রহমান ওরফে টুক্কু মিয়া, তোজাম্মেল বুক ওরকে খাজা মিয়া ও মোজাম্মেল হক ওরফে বাবু মিয়ার নামে ১৬৯২ নং কবুলিয়ত দলিলমূলে ২৬.৩৯ একর জমি পত্তন দেন। অতঃপর অরওআর রেকর্ডে নালিশী সিএস ২৭৪০ নং দাগ থেকে ১০২ একর জমি এনামুল হক ও এমদাদুল হকের নামে, ১৭১ নং খতিয়ানে ১.৫৯ একর নামে জমি আব্দুর রাজ্জাক ও মতিউর রহমানের নামে, ১৬৮ নং খতিয়ানে এবং ৪৪ শতাংশ জমি মোজাম্মেল হকের ছাহামে পতিত হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিক্রি করে দাতাগন জমি হস্তান্তর করেন। ১৬৮ নং খতিয়ানে আরওআর মালিক থেকে জমি ক্রয় করে আশরাফ আলী মালিক দখলদার হন। বিআরএস ২৮৪৮ খতিয়ানে ১৯৫৮ দাগে আশরাফ খালীর নামে মালিক দখল করে আছেন। পরবর্তীতে মোজাম্মেল হক, আঃ খালেক এবং সাজেদা বেগমের নামে যাথাক্রমে ১৯৫৯, ১৯৬০, ১৯৬১, ১৯৬৩ বিআরএস মালিক দখল থাকা অবস্থায় বর্তমানে ক্রয়মুলে এবং ওয়ারিশান সূত্রে মালিক হন যাথাক্রমে, আব্দুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, সিরাজুল ইসলাম, মামুন মিয়া ও আব্দুল বাসেদ। এমতাবস্তায় উপরোক্ত উল্লেখিত মালিকগন দখল করে থাকা অবস্থায় বিবাদী আব্দুস সাত্তার ও তার সহযোগিরা ৬২/২৬ নং মামলা মেলান্দহ কোর্টে দায়ের করা থাকা অবস্থায় বাদী পক্ষ ২০৯/২০২৬ নং মামলা বিবাদী পক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করেন। পরবর্তীতে ০৬/০৯/২০২৬ ইং তারিখে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ কার্যকর করার জন্য বিবাদী পক্ষ যাতে নালিশী তফসিল বর্নিত ভূমি থেকে বাদী পক্ষকে জোর করে বেদখল করতে না পারে সে লক্ষ্যে অত্র আদালত কর্তৃক বিগত ০৬/০৯/২০২৬ ইং তারিখে দোতরফা সূত্রে প্রচারিত অন্তকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দ্বারা বারিত করেন। সেই সাথে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে দেখার জন্য মেলান্দহ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ উচ্চ আদলতে আপিল করলে আদালত কৃর্তৃক দোতরফা সূত্রে শোনানীতে আদালত ১৮/১০/২০২৬ তারিখে মিস আপিলটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশী জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্ত বিবাদী আব্দুস সাত্তার ও তার সহযোগীরা আদালতের আদেশ অমান্য করে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেলে বাদী পক্ষের ভুমিতে জোর পূর্বক প্রবেশ করে মাটি কেটে দুচালা ঘর তোলে ও সেখানে সবজির জন্য মাচা তৈরি করে।

এ বিষয়ে অভিয্ক্তু আব্দুস সাত্তার জানান, আমরাই জমির প্রকৃত মলিক, এর জন্য জমিতে ঘর তুলেছি। আমাদের সকল কাগজপত্র আদালতে দেয়া আছে। অন্যের কোন জমিতে ঘর বা স্থাপনা তুলি নাই।

জমির একাংশের মালিক আব্দুল্লাহ জানান, যে জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে, নিষেধাজ্ঞা আছে, সেই জমিতে তারা জোরপূর্বক ঘর তুলেছে। জমিটি আব্দুস সাত্তার ও তার লোকজনদের বাড়ীর কাছে হওয়ায় তার জোর পূর্বক দখল করে ঘর তুলেছে।

এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার অন্তর্গত মাহমুদপুর তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই বেলাল হোসেন জানান, ঘটনা শুনেছি, জমিটি বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। জমিতে উভয় পক্ষকে না যাওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা দেন বিজ্ঞ আদালত। পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত আবার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন।