👁 498 Views

কলাপাড়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় ১০ মাসের শিশু রায়হান নিখোঁজের দুই দিন পর খাল থেকে লাশ উদ্ধার,  শিশুর খালু গ্রেফতার

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে নিখোঁজের  দুই দিন পর  বাড়িসংলগ্ন খাল থেকে ১০ মাস বয়সী শিশু রায়হানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ১৭ অক্টোবর বেলা সাড়ে ৯টার দিকে কচুরিপানার নিচে বাজারের কাপড়ের ব্যাগে ভরা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির আপন খালু আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে শিশুটির বাড়িসংলগ্ন খালের একটি স্থান থেকে
দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পরে স্থানীয়রা কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে নিচে একটি কাপড়ের
ব্যাগে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির আপন খালু আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশু নিখোঁজ, অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় নিকটাত্মীয়ের সম্পৃতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন শিশুটির মা-বাবা ও স্থানীয়রা। এ ঘটনায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত  বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে আল-আমিনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন শিশুটির মা রুমানা।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ভোরে বসতঘরে বাবার সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হয় শিশু রায়হান। উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  রায়হান ওই গ্রামের রাসেল খানের ছেলে।
পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাসেল খান তাঁর শিশুসন্তানকে নিয়ে বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী রুমানা বেগম ঘরের বাইরে ঝাড়ু দেওয়া, মোছা ও পিঁড়া লেপার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে সন্তনকে দেখতে না পেয়ে তিনি স্বামী রাসেলকে ডেকে জাগিয়ে তোলেন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্তানকে না পেয়ে পুকুরে সেচ দেওয়া হয় এবং এলাকাজুড়ে মাইকিং করা হয়। তবু শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।
পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করতে আমরা কাজ করছি। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।