👁 277 Views

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বন্ধুর মায়ের কাছে অভিযোগ করতে গিয়েই মর্মান্তিক পরিণত

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধ বন্ধুর বিরুদ্ধে তার মায়ের কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়ে প্রাণ হারালো ইমদাদুল হক (২২)। সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে আলমডাঙ্গার গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নাইস খন্দকারের (২৫) বাড়িতে গিয়ে বাটামের আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও স্থানীয় কয়েকজন যুবকের হাতে আটক হন অভিযুক্ত নাইস। পরে তাকে আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত ইমদাদুল হক আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার নওদাবন্ডবিল গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। অভিযুক্ত নাইস খন্দকার একই এলাকার মৃত মজনু খন্দকারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১০টার দিকে গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন ইমদাদুল ও নাইস। এ সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বন্ধুর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ইমদাদুল তার মায়ের কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। জানা গেছে, নাইসকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রেখে তার বাড়িতে যান ইমদাদুল। সেখানে নাইসের মায়ের কাছে ছেলের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাদের মধ্যে আবারও কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, নাইস বাটাম দিয়ে ইমদাদুলকে ধাওয়া করেন। পালানোর সময় ইমদাদুল বাড়ির ভেতরে পড়ে গেলে তার মাথায় বাটাম দিয়ে আঘাত করেন নাইস। এতে গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন ইমদাদুল। দীর্ঘ সময় ইমদাদুল বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় স্বজনেরা তার খোঁজ করতে গিয়ে বাড়ির ভেতরে টিউবওয়েল ও ঘরের মাঝখানে বেড়ার পাশে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় রওয়ানা হলে পথেই খাজানগর এলাকায় তার মৃত্যু হয়। নাইসের মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমদাদুল তার বাড়িতে এসে ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইমদাদুল একটি লাঠি দিয়ে নাইসকে আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি পড়ে গেলে নাইস বাটাম দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। ঘটনার পর নাইস বাড়ি থেকে পালিয়ে লালব্রিজ এলাকায় চলে যান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে দেখতে পেয়ে আটক করার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি পাশের বধ্যভূমির দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে রাতেই তাকে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইমদাদুল বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কয়েক দিন আগে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। ফ্লাইট না হওয়ায় মঙ্গলবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। তাদের দাবি, নাইস কোনো কাজ করতেন না এবং তার মেজাজ ছিল উগ্র। আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান, নওদাবন্ডবিল গ্রামের ইমদাদুল নামের এক যুবক আরেক যুবকের বাটামের আঘাতে নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত জব্দ করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সামান্য কথাকাটাকাটি থেকে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে এক তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।