👁 109 Views

ইউরোপ পাঠানোর নামে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল

মোঃ নজরুল ইসলাম ইউরোপ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মানব পাচারকারী চক্রের চার সদস্যের বিরুদ্ধে নরসিংদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মানব পাচারকারী নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের ফকরুল ও করিমপুর ইউনিয়নের মাসুদের জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার হয়ে আমদিয়া ইউনিয়নের চানগাও গ্রামের আলমাছ হোসেনসহ বেশ কয়েকটি পরিবার আজ নিঃস্ব ও সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী যুবকের পিতা মো. তোফাজ্জল হোসেন আলমাছ (৬০) গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নরসিংদী মডেল থানায় হাজির হয়ে চারজনকে আসামি করে এই অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন— নজরপুর ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামের মো. সিদ্দিক মিঞার ছেলে মো. ফকরুল মিঞা (৫০), করিমপুর ইউনিয়নের মো. মাসুদ মিঞা (৪৫), মাসুদের মা জয়না বেগম (৬০) এবং স্ত্রী নাজমিন বেগম (৩০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা চিহ্নিত অবৈধ মানব পাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য। আনুমানিক এক বছর আগে তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আবদুল্লাহ আল-মামুন (২৫) ১ নম্বর আসামি ফকরুল মিঞার প্রলোভনে পড়ে পরিবারকে না জানিয়ে লিবিয়া গমন করেন। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর সেখানে অবস্থানরত ২ নম্বর আসামি মাসুদ মিঞা যুবক মামুনকে একটি কক্ষে জিম্মি করে ফেলে এবং বাংলাদেশে তার পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
ছেলের জীবন রক্ষার্থে তোফাজ্জল হোসেন পরিবারের নারীদের গহনা বিক্রি করে গত ১ মে ২০২৫ তারিখে ব্যাংকের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে নিজের ধানী জমি বিক্রি করে ১০ মে ২০২৫ তারিখে আসামি মাসুদের বাড়িতে গিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকা নগদ বুঝিয়ে দেন। এভাবে ৩০ লাখ টাকা তুলে দিতে গিয়ে ভিটেমাটি ছাড়া সব হারিয়ে আজ পথের ফকির তোফাজ্জল হোসেনের পরিবার।
৩০ লাখ টাকা পাওয়ার পরও অভিযুক্তরা মামুনকে ইউরোপে না পাঠিয়ে আরও টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। একপর্যায়ে লিবিয়ায় জিম্মিদশা থেকে জীবন বাঁচিয়ে পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন মামুন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতেও পরিবারটির আরও প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়।
পরবর্তীতে পাচারকৃত টাকা ফেরত চাইলে আসামি ফকরুল নানা তালবাহানা শুরু করেন। গত ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেলে ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে ৩ ও ৪ নম্বর আসামি তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও টাকা ফেরত দেবে না বলে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
চরম আর্থিক ক্ষতি ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশান্ত এই ভুক্তভোগী পরিবার চক্রটির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের আকুল হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *