
নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ৮ নং শ্রীরামকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন অনুপ কুমার সিকদার। তিনি বর্তমানে ৮ নং শ্রীরামকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত পরিচিতি তুলে ধরে অনুপ কুমার সিকদার জানিয়েছেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন ।
তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ১৯৯৫ সালে শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক, ১৯৯৯ সালে ৮ নং শ্রীরামকাঠী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১০ সালে একই ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে পিরোজপুর জেলা যুবদলের সদস্য এবং নাজিরপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
এছাড়া অনুপ কুমার সিকদার নাজিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক এবং বর্তমানে ৮ নং শ্রীরামকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দাবি, বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে মামলা, হামলা ও হয়রানির শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়ে অনুপ কুমার সিকদার নিজেকে দীর্ঘদিনের তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি জানান।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন অনুপ কুমার সিকদার। তিনি শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের সপ্তগ্রাম সম্মিলনী খেজুরতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, নাজিরপুর ক্রীড়া একাডেমির উপদেষ্টা এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং পিরোজপুর জেলা ও নাজিরপুর উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের তথ্য রয়েছে তার পরিচিতিতে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও উঠে এসেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সামাজিক প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন বলে তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষাজীবনে যশোরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি, এইচএসসি, বিএ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করছেন অনুপ কুমার সিকদার। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদারের মাধ্যমে দলীয় সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
দলীয় মনোনয়ন পেলে শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তবে শ্রীরামকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন, তা দলীয় সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।