👁 427 Views

 নওগাঁয় চাকমা পরিচয় গোপন করে বিয়ে, চার মাস পর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও; দিশেহারা মেয়ের পরিবার

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ: নওগাঁর মা নওগাঁয় চাকমা পরিচয় গোপন করে বিয়ে, চার মাস পর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও; দিশেহারা মেয়ের পরিবারন্দায় নিজের চাকমা পরিচয় গোপন করে ভুয়া জন্মনিবন্ধন দেখিয়ে এক তরুণীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
 বিয়ের প্রায় চার মাস পর ওই তরুণীকে নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যান তিনি। এরপর থেকে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে কোন প্রকার  যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তরুণীর স্বজনেরা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১৩ নম্বর কশব ইউনিয়নের দক্ষিণ চকবাবুল গ্রামে। এ ঘটনায় দুশ্চিন্তায় দিন-রাত কাটছে তরুণীর মা-বাবার।
তরুণীর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মার্চ ২০২৬ নওগাঁর একটি কাজী কার্যালয়ে মোছা. সুমাইয়া আক্তারের সাথে বিয়ে হয় ওই যুবকের। বিয়ের সময় তিনি নিজেকে ‘মো. ইমরান’ এবং বাবার নাম ‘ইব্রাহিম’ উল্লেখ করেন। জন্মনিবন্ধনে তাঁর ঠিকানা হিসেবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের বড় মেরুং গ্রামের ঠিকানা দেখানো হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ টাকা।
তবে পরিবারের দাবি, ওই যুবকের প্রকৃত নাম দ্বীপ্পো চাকমা। তাঁর বাবার নাম গোলক চাকমা এবং মায়ের নাম কল্পনা চাকমা। তাঁর বর্তমান ঠিকানা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বড়দাম গ্রামে বলে দাবি করেছে মেয়ের পরিবার।
বিয়ের পর প্রায় চার মাস সুমাইয়ার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করেন ওই যুবক। পরে নিজ গ্রামের কথা বলে সেখানে যান। পরিবারের অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই তিনি সুমাইয়াকে সাথে  নিয়ে রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর ২১ জুলাই থেকে তাঁর সাথে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের কারও সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সুমাইয়ার মা বলেন, “আমার মেয়েকে বিয়ে করার সময় সে নিজের পরিচয় ও ঠিকানা অন্যভাবে জানিয়েছে। বিয়ের পর চার মাস আমাদের সাথে ছিল। পরে মেয়েকে নিয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। বিয়ের সময় যে মুঠোফোন নম্বরগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতেও এখন যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। আমরা মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।
তিনি আরও বলেন, “দিন-রাত ঘুমাতে পারছি না। মেয়েটা কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে—কিছুই জানি না। আমরা চাই, দ্রুত মেয়ের সন্ধান পাওয়া যাক এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হোক।”
তরুণীর পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় দেওয়া জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে তাঁরা জানতে পারেন, ওই যুবকের পরিচয় নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। তবে জন্মনিবন্ধনটি ভুয়া কি না এবং ওই যুবকের প্রকৃত পরিচয় কী—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের বিষয়।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি বলে জানিয়েছে তরুণীর পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁরা মেয়ের সন্ধান এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *