👁 483 Views

শিশু শিক্ষার্থীকে পেট মুচড়ে নির্যাতনের অভিযোগ: অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পড়া দিতে না পারায় প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে পেট মুচড়ে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সোমবার (৩ আগস্ট) পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরজুমান আরা গোলেনুরকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর আগে গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশ জানান, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমান মিথুন বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক।
ঘটনার পর সংবাদকর্মীরা ভুক্তভোগী শিশুর বাড়িতে গেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে জানায়, পড়া না পারলে মিথুন স্যার প্রায়ই তার পেট মুচড়ে ধরে শাস্তি দেন। রোববারও পড়া দিতে না পারায় শিক্ষক তার পেটে এত জোরে চাপ দেন যে সে ব্যথায় কেঁদে ফেলে। শিশুটি আরও অভিযোগ করে, এর আগেও একদিন তাকে বেঞ্চে শুইয়ে পেটে চাপ দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও শিশুটির বর্ণনা প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, বরং শিশুর মর্যাদা ও নিরাপত্তার পরিপন্থী গুরুতর আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আজ একটি অভিযোগ পেয়ে আপনারা এসেছেন। কিন্তু এর আগে বিদ্যালয়টি কত ভালো কাজ করেছে বা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে, তখন তো আপনারা আসেননি।”
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মাহফুজুর রহমান মিথুনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরজুমান আরা গোলেনুর বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সহকারী শিক্ষক মাহফুজুর রহমান মিথুনের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *