👁 501 Views

বেনাপোলে মানবপাচারের শিকার ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ‘হাফওয়ে হোম’ উদ্বোধন

ইয়ানূর রহমান : মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়, পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বেনাপোলে অন্তর্বর্তীকালীন আশ্রয়কেন্দ্র (হাফওয়ে হোম) উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেনাপোলের সানরুফ হোটেলের কনফারেন্স রুমে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রাইটস যশোর। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এর কারিগরি সহযোগিতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সমাপনী বক্তব্য দেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে ওয়াহিদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন রাইটস যশোরের কর্মসূচি পরিচালক প্রদীপ দত্ত। পরে রাইটস যশোরের উপ-পরিচালক এস এম আজহারুল ইসলাম বেনাপোলের অন্তর্বর্তীকালীন আশ্রয়কেন্দ্রের (হাফওয়ে হোমের) কার্যক্রম ও ভুক্তভোগীদের জন্য প্রদেয় সেবাসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তাসনিম বিনতা করিম প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। শেষে উন্মুক্ত আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি পাচারের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, মানসিক সহায়তা, আইনি পরামর্শ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সমাজে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নবপ্রতিষ্ঠিত এ আশ্রয়কেন্দ্র ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আয়োজকরা জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধে ইউএনওডিসি পরিচালিত তিন বছর মেয়াদি আঞ্চলিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত। এ প্রকল্পের আওতায় মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের অধিকার সুরক্ষা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা জোরদার এবং পাচারকারীদের বিচারের আওতায় আনতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন শার্শা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহান-ই-গুলশান ববি, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন, ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান, শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিমুল হক, বেনাপোল কোম্পানী সদর বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মহসীন চৌধূরী প্রমুখ। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *