
বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের মাঝে সরকারি ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তিনজনের মধ্যে দুজনকে ১ লাখ টাকা করে এবং একজনকে ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া নিহতদের ১৫টি পরিবারের প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ১৮ জন উপকারভোগীর মধ্যে মোট ৯৫ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দুর্বলরা সবসময় অবহেলিত। আমাদের সমাজে এক ধরনের হিংসাত্মক প্রবণতা রয়েছে। প্রতিপক্ষ ভালো কাজ করলেও অনেকে তা সহ্য করতে পারেন না এবং সেই কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এ ধরনের মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সুখ-শান্তি কামনা করে তিনি বলেন, এই ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিবহন মালিকদের অবদান, শ্রমিকদের বেতনের একটি অংশ এবং সরকারের অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পাবনা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত জেলায় পরিণত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের প্রশংসা করে শিমুল বিশ্বাস বলেন, তিনি ওয়াই
প্যাটার্ন সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সার্ভে সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি শান্ত পুকুরে ঢিল ছুড়ে দিলে যেমন ঢেউ সৃষ্টি হয়, তেমনি ২১টি জেলার স্বার্থকে একসূত্রে গেঁথে ওয়াই প্যাটার্ন সেতুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের পাঠানো গোপনীয় প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে। এ সেতু বাস্তবায়িত হলে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষ উপকৃত হবেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পদ্মা প্রকল্প ও তিস্তা প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। তবে বড় বড় ক্ষমতাধর মহলের নানা বাধার কারণে এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
গত ২৫ জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় নবনিয়োগপ্রাপ্ত ১৮ জন কর্মচারীর নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ৮ হাজার প্রার্থী তাঁর কাছে সুপারিশের জন্য এসেছিলেন। তিনি চাইলে দুই-একজনের জন্য সুপারিশ করতে পারতেন এবং জেলা প্রশাসকও তা বিবেচনা করতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি বলেন, এখানে এমএ ও ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা প্রার্থীরাও পিয়ন পদে চাকরি পেয়েছেন। এতে বোঝা যায়, দেশে বর্তমানে চাকরি কতটা দুর্লভ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন ঢালী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
এ সময় বক্তব্য দেন পাবনা জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি মোজাম্মেল হক কবির, মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম মমিন, জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেহানুল ইসলাম বুলাল, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক ফিরোজ খান এবং জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল বারিক।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরুজ্জামান, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক তৌফিক ইকবাল, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সাবেক সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আলতাফ হোসেন ও তাঁর দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, বাস, ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনের মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, উপকারভোগী পরিবারের সদস্য, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।