
ভালুকা প্রতিনিধি ময়মনসিংহের ভালুকায় বিডিবি ও পল্লীবিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরএলাকাসহ গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। দিনে ও রাতে বার বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় গৃহস্থালীর কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার সদরসহ উপজেলার গ্রামাঞ্চলের বেড়েছে লোড শেডিংয়ের মাত্রা। একবার বিদ্যুৎ গেলে দীর্ঘক্ষণ পর আসে। রাতে তিন ভাগের দুইভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকেনা বলে জানিয়েছেন পৌরএলাকা ও গ্রামাঞ্চলের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। প্রচন্ড গরমে ঘন ঘন লোড শেডিংয়ের কারণে অতিষ্ট হয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। পাশাপাশি, বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোড শেডিংএর কারণে গৃহস্থালীর কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।
ভালুকা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার সর্তে পিডিবির এক গ্রাহক জানান, গত শুক্রবার রাতে অন্তত ২০ বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করেছে। এতে বাসার ছোট শিশু বাচ্চাসহ সকলের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তাছাড়া আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্র জানায়, তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা ৫ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৪ লাখ ৮৫ হাজার, বাণিজ্যিক প্রায় ২৫ হাজার ৫০০, শিল্প ৫ হাজার ২০০ এবং সেচে চার হাজার ১০০। মোট বিদ্যুৎ চাহিদা দুই’শ ৯০ মেগাওয়াট। গ্রাহকরা পাচ্ছেন ২১০ থেকে ২১৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ভালুকা ও গফরগাঁও উপজেলায় চাহিদা এক’শ ৩০ মেগাওয়াট। আর গ্রাহক পাচ্ছেন ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার আকমল হোসেন বলেন, ভালুকায় চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বিপিডিবি ভালুকা কার্যালয় সুত্র জানায়, তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। এর মধ্যে ৮০% আবাসিক গ্রাহক, বাকি ২০% অন্যান্য গ্রাহক। ভালুকা উপজেলায় চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। আর গ্রাহক পাচ্ছেন ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট।
বিপিডিবি ভালুকা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।