👁 149 Views

কুষ্টিয়া জেলা বারের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দূর্ণীতি ও অনিয়য়ম করে সরকারী রাজস্ব অত্মসাথের অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :  কুষ্টিয়া জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (অ্যাডিশনাল জিপি) এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, জিপি অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন গত বছর পবিত্র হজ্বে যাওয়ার সময় অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদ কে ২৯ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ২০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত জিপির দ্বায়িত্ব দিয়ে যান, এই সুযোগে তিনি, দৌলতপুর চৌকি আদালত বাদে, কুষ্টিয়া জেলা জজের বিভিন্ন আদালতের সরকারি মামলার নিষ্পত্তি বিল, মোকদ্দমার প্রকৃত মূল্যমান( তায়দাদ) অপেক্ষা মিথ্যার আশ্রয়ে অধিক মূল্যমান দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত ফিসের প্রায় দ্বিগুণ ফিস দেখিয়ে, নিজ স্বাক্ষরিত ফিস বিল ডিসি কোর্টের রেভিনিউ মুনসি খানায় দাখিল করেন।
জিপি অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন ইংরেজি ১৭ জুন ২০২৫ তারিখে দেশে ফিরে এসে, ১৮ জুন ২০২৫ তারিখে শাতিল মাহমুদ কে দ্বায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজে দ্বায়িত্ব গ্রহন করে, জেলা জজ ও জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়াকে লিখিত ভাবে তিনি জ্ঞাত করেন।
জিপি এ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন জানান সেপ্টেম্বর ২০২৫ এর মাঝামাঝি সময়ে তিনি জানতে পারেন, হজ্জ শেষে দ্বায়িত্ব গ্রহনের পরেও অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদ ২৫ জুন ২০২৫ তারিখে অবৈধ ফিস বিলের, ১ম বিলের ১ লক্ষ্য ৯৮ হাজার টাকা যার বিল নং ৪৪/২৪-২৫ , চেক নং, ৩১২০১০৩, তারিখ- ২৫/৬/২৫ প্রথম সরকারি চেক নিজ নামে নিয়ে নিজ একাউন্টে জমা দিয়ে একক ভাবে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ২য় বিল নং, ০১/২০২৫-২৬, চেক নং, ২১ স-৩২৪৭০০১, তারিখ ৪/৯/২০২৫ দ্বিতীয় চেকে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিজ নামে নিয়ে ৭-৯-২০২৫, তারিখে নিজেই গ্রহন করে নিজ একাউন্টে জমা দেন।এই প্রতিনিধির জিজ্ঞাসা মতে,
জিপি অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন জানান যে, তিনি বিষয়টি অবগত হওয়ার সাথে সাথে তদানিন্তন জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়া ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব কুষ্টিয়াকে মৌখিক ভাবে জানায় এবং তদন্ত পূর্বক প্রকৃত ফিস বিল নির্ধারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করেন এবং অনান্য সকল অতিরিক্ত জিপি ও এজিপি দেরকেও জ্ঞ্যাত করান। ১৭/১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদ তার নিজ একাউন্ট হইতে দ্বিতীয় ফিস বিলের, ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা, উত্তলন করে জিপি অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিনের হাতে দিলে তিনি উক্ত টাকা হতে নিজে ও অন্যান্য অতিরিক্ত জিপি ও এজিপি দের প্রাপ্য টাকা বন্টন করিয়া দেন। জিপি মাহাতাব উদ্দিন বলেন,তাহার দ্বারা বন্টন কৃত ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে যদি সরকারের কোনো অতিরিক্ত টাকা থাকে,তাহলে উক্ত টাকা তিনি ও অনান্য অতিরিক্ত জিপি ও সহকারী জিপি গণ ফেরত দিতে সব সময় প্রস্তুত আছে । তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করার দাবী জানান তিনি। সরকারী টাকা ভুয়া বিলের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা দন্ডণীয় অপরাধ।এ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন আরো বলেন, প্রতিটি আদালতেরই প্রকৃত তায়দাদ অপেক্ষা অধিক তায়দাদ দিয়ে প্রকৃত বিল অপেক্ষা অধিক বিল দাখিলের অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদ কর্তৃক ডিসি কোর্টের দাখিল কৃত বিলের বিভিন্ন আদালতের মোকদ্দমার উল্লেখিত তায়দাদ এবং আদালতে রক্ষিত স্যুট রেজিস্ট্রারে উল্লেখিত তায়দাদ পরিক্ষা করিলেই অ্যাডভোকেট শাতিল মামমুদ কর্তৃক প্রকৃত তায়দাদ অপেক্ষা মিথ্যার আশ্রয়, অধিক তায়দাদ দেখিয়ে প্রকৃত ফিস বিল অপেক্ষা অধিক বীল দাখিল ও উত্তলনের প্রমান পাওয়া যাইবে।
এদিকে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (অ্যাডিশনাল জিপি) এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক না। তিনি বলেন, এই বিলের টাকা উত্তোলন করতে হলে যাচাই বাছায় করেই সরকার আমাদেরকে টাকা দিয়ে থাকেন। এই বিল নিয়ে আমাদের মাঝে যে ভুল বুঝাবুঝি হয়ে ছিল তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) এর অফিস কক্ষে বসে মিমাংশা করে নেয়া হয়। আমার বিরুদ্ধে যে অপবাদ প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বিভ্রান্ত সৃষ্টি করার জন্যই অপ্রচার চালানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *