👁 409 Views

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময়ের শিক্ষকতা, গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে আসছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যের নাম ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এটি তার জন্য নতুন দায়িত্ব হলেও এখনও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন পাননি বলে জানান তিনি।
ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে একই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন এবং ২০০৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডিকা ধানের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক গবেষণার ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা এবং অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলে তেলবীজের গুণগত মান উন্নয়ন বিষয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসে ভিজিটিং প্রফেসর ও গবেষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০০৪ সালে তার উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে বিভাগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফাংশনাল জেনোমিক্স অ্যান্ড প্রোটিওমিক্স ল্যাবরেটরি (FGPL) এবং আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন স্বয়ংক্রিয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস। এখানে ডিএনএ সিকোয়েন্সার, আরটি-পিসিআর, জিন পালসারসহ অত্যাধুনিক গবেষণা যন্ত্রপাতি রয়েছে।
২০১৯ থেকে ২০২২ সালের করোনা মহামারির সময় তিনি কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। তার ৩১ বছরের শিক্ষকতা ও গবেষণা জীবনে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৫১টি। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।
গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকে ৫০টিরও বেশি গবেষণা অনুদান লাভ করেছেন। এছাড়া তিনি ৩৯ জন এমএস শিক্ষার্থী, সাতজন এম.ফিল গবেষক এবং একজন পোস্টডক্টরাল গবেষকের গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন।
এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *