👁 215 Views

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শুরু হয় এক বিশাল দুধের পাইকারী বাজার।।

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ভোর হওয়ার আগেই যখন শহর ঘুমিয়ে থাকে, তখনই বগুড়ার দুপচাঁচিয়া সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শুরু হয় এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। সাইকেলের টুংটাং শব্দ আর ভ্যান গাড়ির ভিড়ে সেখানে রূপ নেয় এক রুপালি সাগরের। এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম পরিচিত এবং ব্যস্ততম দুধের বাজার। প্রতিদিন মাত্র দুই ঘণ্টার এই বাজারটি এখন স্থানীয় অর্থনীতির এক শক্তিশালী চালিকাশক্তি।
প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা—এই নির্দিষ্ট সময়ে দুপচাঁচিয়া সিও অফিস সংলগ্ন ঊষা প্লাজা ও যাত্রী ছাউনির সামনে বসে এই বিশাল বাজার। প্রত্যন্ত মোস্তফাপুর বাজার, গুপিনাথপুর ও আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত খামারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত টাটকা দুধ নিয়ে এখানে হাজির হন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন এখানে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার লিটার দুধ কেনাবেচা হয়। একেকটি ভ্যানে চার থেকে পাঁচটি বড় কন্টেইনারে করে দুধ আসে, যা মুহূর্তের মধ্যেই কিনে নেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারি ক্রেতারা।
বগুড়ার বিখ্যাত দই ও মিষ্টির স্বাদের রহস্য লুকিয়ে আছে এই বাজারেই। তালোড়া, চৌমুহনী, খুনিহারা এবং উপজেলা সদরের নামকরা সব কারখানার মালিকেরা এখান থেকেই তাদের প্রধান কাঁচামাল সংগ্রহ করেন।
পলাশ ঘোষ জানান, তিনি প্রতিদিন ২৪০ থেকে ২৮০ কেজি দুধ কেনেন।
জয়দেব ঘোষের মতো বড় কারিগররা প্রতিদিন ১৮০ কেজি থেকে ১২০০ কেজি পর্যন্ত দুধ এখান থেকে সংগ্রহ করে দই ও মিষ্টি তৈরি করেন। এছাড়াও স্থানীয় দুলালী হোটেল, রিপন হোটেল এবং অসংখ্য মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল।
বিপুল চাহিদার কারণে মাঝে মাঝে ভেজাল দুধের শঙ্কা থাকলেও কর্তৃপক্ষ সজাগ। উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক জানান, ভ্রাম্যমাণ ল্যাব টেস্টিংয়ের সুবিধা তাৎক্ষণিক না থাকলেও তারা নিয়মিত ল্যাকটো মিটার ল্যাক্টোমিটার দিয়ে দুধের ঘনত্ব পরীক্ষা করেন।
“বাজারে ভেজাল বা পানি মেশানো দুধ পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দেওয়া হয় এবং ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। ফলে ঘোষ ও কারিগররা এখান থেকে দুধ কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।”

সকাল পেরিয়ে বিকেলে পুনরায় এই বাজার বসে পুরাতন বাজার এলাকায়। দুপচাঁচিয়ার এই দুধের বাজার কেবল একটি কেনাবেচার স্থান নয়, বরং এটি স্থানীয় হাজারো কৃষক ও খামারির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতীক।
আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত ব্যবস্থাপনার ছোঁয়া পেলে এই বাজারটি কেবল জেলা নয়, বরং সারা দেশের জন্য একটি ‘রোল মডেল’ হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এখানে একটি স্থায়ী দুগ্ধ পরীক্ষাগার ও সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হলে খামারিরা আরও লাভবান হবেন।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *