👁 81 Views

সিরাজগঞ্জে সংঘর্ষে দুইজন নিহতের ঘটনায় প্রধান আসামীসহ ৩জন আটক

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাস পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে বিএনপির দুই কর্মী নিহতের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার রাত থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় তিনজনকে আটকবস্থায় রয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এর আগে সোমবার সকালে উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ায় এ সংঘর্ষে দুই বিএনপি কর্মী নিহত হয়। আটককৃতরা হলো-উপজেলায় গোয়ালপাড়ার নজর আলীর ছেলে আছমত আলী (৪২), একই এলাকার রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে আশরাফ আলী (৪৪) ও আব্দুর রহিমের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৪২)। তারা সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান জানান, সংঘর্ষের পর উভয়পক্ষের আহতরা সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আবুবক্কার সিদ্দিক গ্রুপের দুইজন মারা যাওয়ার পর আছমত আলী গ্রুপের আছমত আলীসহ তিনজন পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিহতদের পরিবার মামলা করলে তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে। এছাড়াও অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, দুজন নিহতের ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত মামলা হয়নি। নিহতদের মরদেহ সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরো জানান, আর আবুবক্কার সিদ্দিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছে চিকিৎসকরা। তার মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং এক পা ভেঙ্গে গেছে। আর আটককৃতরা সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ায় ৫ বিঘা আয়তনের সরকারি খাসপুকুর নিয়ে আওয়ামীলীগ সমর্থিত আছমত আলী ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুবক্কার সিদ্দিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। আছমত আলী স্থানীয় মসজিদের নামে পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তের পর বিএনপি নেতা আবুবক্কার সিদ্দিক পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেন। গতকাল সোমবার সকালে আবুবক্কার সিদ্দিক লোকজন নিয়ে ওই পুকুরে জাল ফেললে আছমত আলী গ্রুপ তাতে বাঁধা দেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ধারালো অস্ত্র, হাঁসুয়া, দাঁ ও লাঠিসোঁটার আঘাতে আছমত আলীর পক্ষের ৪ জন ও আবুবক্কার সিদ্দিকের পক্ষের ৭ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুবক্কার সিদ্দিকের বড় ভাই আব্দুস সালাম (৬০) ও একই গ্রুপের মনছের আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৭০) বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এই পুকুরের দখলকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালে ফজলার রহমান নামে আরো একজন নিহত হয়েছিলেন।##

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *