
ঘোড়াঘাট, প্রতিনিধিঃ-
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দেবখন্ডা গ্রামে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জমির মালিক ছফুরা খাতুন বলেন, গত ১৯৬২ সালে আমার পিতা কছর উদ্দিন আমার নামে ১৫ একর ৬৫ শতক জমি রেকর্ড করে দেযন । এরপর আমি গত ১৯৬৪ সালে আমার তিন ছেলের নিকট জমিগুলি হস্তাস্তর করি (যাহার দলিল নং ৬৮০৪)।
অভিযোগকারী শামীম জানান, রোববার সকাল ৯টার দিকে তার চাচা বদিউজ্জামান, আবুল কালাম এবং তাদের ছেলে জনি ও জুয়েল ভাড়াটে লোক নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে বাধা দিতে গেলে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি তাদের বাধা দিয়ে প্রতিপক্ষকে জমিতে ধান লাগাতে নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করেন শামীম।
এ সময় তার ভাবী মুক্তা বেগমকে সেখান থেকে আটক করে থানায় নেয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। লুৎফা বেগম বলেন, জমিগুলো তার শাশুড়ির নামে হলেও তাদেরকে সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না। থানা পুলিশ গভীর রাতে একাধিকবার বাড়িতে এসে ভয়ভীতি সহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করে থাকেন। জমিতে প্রবেশ করলে জেলে পাঠানোরও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ইতোমধ্যে তাদের কিছু জমি দখল করা হয়েছে। জমির বিরোধের কারণে তার প্রায় ৯০ বছর বয়সী স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ গোলাম আজম জানান, কাজের সময় হাঙ্গামা দেখে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, জমি চাষ করতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দিচ্ছে। এ সময় ১০/১৫ জন লোক একটি মাইক্রোবাসযোগে ঘটনাস্থলে আসে। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর দেয়নি।
মো. হিমেল অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত এসআই মোস্তফিজুর রহমান কাগজপত্র যাচাই না করে প্রতিপক্ষকে জমি চাষের অনুমতি দেন। এ সময় তার মা জমি চাষ করতে নিয়ে আসা মেসির সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দিলে পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, “আমার মায়ের কোনো অপরাধ ছিল না। প্রশ্ন করতেই আমাকেও আটক করার হুমকি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, জমিটি দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে তাদের দখলে রয়েছে এবং দলিল অনুযায়ী তাদের মালিকানা রয়েছে। তিনি বলেন, জমি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে এবং দিনাজপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে তাদের নামে পর্চার বিরুদ্ধে রিভিউ করা হয়েছে। আগামী ৩ মার্চ এ বিষয়ে শুনানি রয়েছে।
এ বিষয়ে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি কাউকে সমর্থন করিনি। সবাইকে সরে যেতে বলেছি। আদালত বা গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সমাধান হোক। আমি কাউকে চাষাবাদ করতে বলিনি।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় মুক্তা বেগম নামে এক মহিলাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ২৩/২৬ রুজু করা হয় আটক মুক্তা বেগমকে সোমবার দুপুরে দিনাজপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে ।
ওসি আরও জানান, গভীর রাতে পুলিশ গিয়ে হুমকি দিয়েছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়। উভয় পক্ষের মধ্যে পারিবারিকভাবে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। পুলিশ কাউকে হয়রানি করেনি বলেও দাবি করা হয়।