👁 471 Views

পটুয়াখালীতে লাগামহীন পানের বাজারে

সঞ্জয় ব্যানার্জী, পটুয়াখালী প্রতিনিধি।। ঐতিহ্যগতভাবে পটুয়াখালীর দশমিনায় পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পানের ব্যাপক চাহিদার পাশাপাশি এখানে প্রচুর পান উৎপাদন হয়। কিন্তু শুকনোর মৌসুমে পানের উৎপাদন ব্যাহত হয়। মারাত্মকভাবে যার প্রভাব পড়েছে পানের হাট-বাজারে। তাই বাজারে পানের দাম বেড়েছে তিন থেকে চারগুন।
দশমিনা উপজেলার পানের বাজারের বেশির ভাগ চাহিদা পূরন করে দশমিনা, রনগোপালদী, আলীপুরা ও বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নে পানের বরজ দিয়ে। বানিজ্যিকভাবে পানের চাষ করা হয়। দশমিনার পান দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক চাহিদা । এ বছর পানের উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে প্রায় আড়াই একর জমিতে ছোট-বড় প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক পানের বজর রয়েছে। প্রতিটি একর জমিতে পানের উৎপাদন ব্যয় হয় গড়ে প্রায় ৪-৫ লাখ টাকা। আর পান বিক্রি করে আয় হয় ৭-৮ লাখ টাকা।
পান চাষ ব্যাহত হওয়ার কারন জানতে দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পানের বরজ ঘুরে জানা যায়, সারা বছর পানের ফলন হলেও শুকনো মৌসুমে পান গাছে পানের উৎপাদন কম হয়। এপ্রিল থেকে মে হচ্ছে পান উৎপাদনের প্রাথমিক সময়। তবে এই সময়ের পান ছোট ছোট আকারের হয়। আর জুন থেকে সেপ্টেম্বর হচ্ছে পান উৎপাদনের প্রধান সময়। এই সময়কে ঘিরেই উৎপদনের হিসেব করা হয়। বৃষ্টি পান চাষের জন্য উপকারী। তবে বর্ষা শেষে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পান উৎপাদন কমে আসে। এই বছরের শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পান চাষ ব্যাহত হয়। তার সঙ্গে দেখঅ দেয় পানের বিভিন্ন রোগ। এর মধ্যে পান পচা রোগ ও পান গাছের গোড়া পচা রোগ মারাত্মক আকার ধারন করে। এই দুইটি রোগে দশমিনা উপজেলায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ পান নষ্ট হয়ে গেছে। একদিকে শুকনো মৌসুম অপরদিকে পান গাছে রোগ। এই দুই মিলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছ্ েপান উৎপাদন। যার ফলে লাগামহীন অবস্থা পানের বাজারে।
সরেজমিনে শহরের পানের পাইকারী দোকান ও খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হঠাৎ করে পানের দাম কয়েকগুন বেড়েছে। স্থানীয় পানের বাজারগুলোতে বড় ধরনের যোগান দশমিনার পান। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে যেখানে পান খুচরা বাজারে এক চলি পান বিক্রি হত ৩০-৪০ টাকায় সেখানে সপ্তাহ ঘুরতেই এক লাফে কয়েকগুন দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে দশমিনা বাজারে (৩৬টি) পান প্রতি চলি খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১২০ টাকায়। দাম বাড়ার অজুহাতে সেখানে ৫ টাকায় খিলি পান দেওয়া হচ্ছে অর্ধেক।
দশমিনা বাজারে পান ক্রেতা আদিত্য চন্দ্র শীল জানান, নতুন মৌসুম ছাড়া তারা পান চাষে পরিবর্তনের সম্বাবনা দেখছেন না।
দশমিনা বাজারে খুচরা পান ব্যবসায়ী গনেশ চন্দ্র দাস জানান, পানের উৎপাদন কম থাকায় বাড়তি দামে পান বিক্রি করতে হচ্ছে। আগে ২০ টাকায় সাড়ে নয় গন্ডা পান পাওয়া যেত, এখন ৯০ টাকায় সেই পান পাওয়া যায় না।
এবিষয়ে দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ জানান, পান চাষের জন্য দশমিনার মাটি উপযোগী। তবে শুকনোর মৌসুমে উৎপাদন একটু কম হওয়ার কথা। বৃষ্টি না হওয়ার কারনে পানে রোগ দেখা দিয়েছে আর পান চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে আর পুর্বের থেকে বর্তমানে অনেক পানের রোগ নির্মূল হয়েছে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *