👁 505 Views

১১ দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিল

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদের বিপক্ষে গেলে জনগণ সরকার পরিচালনার অধিকার কেড়ে নেবে। তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনগণের ম্যান্ডেটকে অবমাননা করেছেন। চব্বিশের জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে জুলাই সনদের বিরোধিতা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। জুলাই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ জনগণ এ উল্টো যাত্রা কখনো মেনে নেবে না। প্রয়োজনে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিচালনার অধিকার কেড়ে নিতে বাধ্য হবে।
২২ ফেব্রুয়ারী(রোববার) চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে ১১ দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপিকে ডকট্রিন অব নেসেসিটি বুঝতে হবে এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল ডকট্রিন অব নেসেসিটি, যার ফলশ্রুতিতে ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ম্যান্ডেট মেনে না নেওয়ার পরিণতিতে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপটে শহীদ জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক প্রশাসক হন এবং পরে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট গ্রহণ করেন। এটাই ডকট্রিন অব নেসেসিটির বাস্তব উদাহরণ।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দেড় যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবও ছিল ডকট্রিন অব নেসেসিটি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করা হয় রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে। এ সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং জনগণের রায় নেওয়া হয়েছে। সুতরাং সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই বিপ্লবে গঠিত সরকারের সংস্কার প্রস্তাব বা জুলাই সনদ অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তিনি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও ১১ দলের মহানগর সমন্বয়ক মুহাম্মদ উল্লাহ। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এনসিপি, এবি পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন, লেবার পার্টি ও অন্যান্য দলের মহানগর নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মুহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমানসহ মহানগর জামায়াত ও ১১ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *