👁 144 Views

ইউএনও-চেয়ারম্যান মিলেমিশে ভাগ বাটোয়ারা  নওগাঁর বদলগাছীতে হাট-বাজার উন্নয়নের অর্থ আত্মসাত 

 নওগাঁ প্রতিনিধি:  নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নে কার্ত্তিকাহার হাটের অনুকুলে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  ইসরাত জাহান সনি ও ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম পল্টনের বিরুদ্ধে।

১৪৩১ এবং ১৪৩২ বঙ্গাব্দ অর্থ বছরে ওই হাটের উন্নয়ন না কারে নামমাত্র গাছের গোড়া বাঁধাই ও স্থানীয় কার্ত্তিকাহার প্রগতি সংঘ নামে একটি ক্লাবের টয়লেট মেরামতে করার কাজ দেখিয়ে প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার তুলে নিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, কার্ত্তিকাহার হাট সরকারের তালিকাভুক্ত নয়। ফলে নিয়মিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। তবে উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে এর উন্নয়ন করার দাবি ছিলো দীর্ঘ  দিনের।
আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত উন্নয়ন কর্মকান্ডের নথি বলছে, ১৪৩১ বঙ্গাব্দে ৩ লাখ ৩ হাজার ৩৬৮ টাকা এবং পরবর্তী ১৪৩২ বঙ্গাব্দ অর্থ বছরে ৩ লাখ ২০ হাজার ৬২৫ টাকা ব্যায় দেখানো হয়। কিন্তু প্রথম বছরে কি কি কাজ করা  হয়েছে তার কোন বর্ণনা উল্লেখ নাই। দ্বিতীয় বছরে শুধু গাছের গোড়া টাইলস করে বাঁধাইয়ের কথা বলা আছে। কিন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ- দুই অর্থ বছর মিলিয়ে মাত্র দুটি গাছের গোড়া বাঁধাই এবং ক্লাবের টয়লেট মেরামত করা হয়েছে।
কার্ত্তিকাহার প্রগতি সংঘ ক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যগণ বলেন, কার্ত্তিকাহার হাটের উন্নয়নের বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে নামে মাত্র দুইটি গাছের গোড়া বাঁধাই করা হয়েছে। একইসাথে আগে থেকেই বাঁধাই করা আরো ৪ টি গাছের গোড়াসহ মোট ৬ টি গাছের গোড়া টাইলস করা হয়েছে। যার সর্বোচ্চ ব্যায় হতে পারে ৫০ হাজার টাকা। বরাদ্দকৃত বাঁকি টাকা অত্মসাত হয়েছে।
তাদের অভিযোগ হাটের বরাদ্দকৃত টাকা আতœসাত করে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়ার সাথে জড়িত খোদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান সনি। এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম পল্টন এবং বিপ্লব মেম্বার।
বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও দ্বায়ত্বপ্রাপ্ত মেম্বার একে অপরের উপর দোষ চাপাচ্ছেন। দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য বিপ্লব হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কার্ত্তিকাহার স্কুলের ছয়টি গাছের গোড়া টাইলস করন করা হয়েছে। তবে তিনি আরও বলেন চাঁরটি গাছের গোড়া আগে থেকে ইটদিয়ে বাঁধাই করা ছিলো
নতুন করে শুধু টাইলস করণ করা হয়েছে। আর দুইটি গাছের গোড়া ইটদিয়ে বাঁধাই করে টাইলস করণ এবং ক্লাবের পুরাতন একটি টয়লেটের নির্মাণ কাজ করা হয়েছে।
নাম মাত্র কাজ করে বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে যেভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে, আমি শুধু কাজ করেছি মাত্র। অর্থ আত্মসাত করার বিষয়ে তিনি বিষয়টি এ্যাড়িয়ে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলতে বলেন।
এ বিষয়ে আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম রেজাউল করিম (পল্টন) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কার্ত্তিকাহার হাটের অনুকুলে বরাদ্দকৃত টাকার কাজ চলমান রয়েছে।
তবে কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউপি সদস্য বিপ্লব হোসেন কাজ করছে। অনিয়ম হয়ে থাকলে বা টাকা আতœাসাতের সাথে তিনি জড়িত নন দাবি করেন চেয়ারম্যান।
এদিকে হাটের উন্নয়ন না করে টাকা আত্মসাতের ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে স্থানীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য তৈরী হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান সনি এর সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।