👁 293 Views

শান্ত লতাকে অশান্ত করার চেষ্টা কি?

পাইকগাছায় প্রবাসীর কাছে চাঁদাদাবী ও ভিডিও নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছায় এক প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবীর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় গত ক’দিনে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। জানাগেছে, গত ৫ অক্টোবর লতা ইউনিয়নের পুটিমারীর বাসিন্দা কাতার প্রবাসী সুদীপ্ত মন্ডলের স্ত্রী সাথী রানী মন্ডল বাদী হয়ে দু’যুবকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযুক্তরা হলেন পুটিমারীর নাছির সানার ছেলে শহিদ সানা (২৮) ও গদারডাঙ্গার আবিদ হোসেন (২৩)। এদিকে থানায় অভিযোগের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ঐ দু’যুবক গা ঢাকা দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কেউ গ্রেফতার হয়নি। জানাগেছে, অতি উৎসাহি বাদির পরিবারের দারা ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় ওই দুই যুবককে আটক করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে প্রবাসীর স্ত্রী উল্লেখ করেন এক মাস পূর্বে আমার স্বামী অসুস্থ অবস্থায়  বাড়ীতে অবস্থান করছেন। ৪ অক্টোবর রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকায় চিকিৎসার উদেশ্য আমার স্বামী বাড়ী থেকে রওনা হওয়ার মুহূর্তে উঠানে উল্লেখিত দুই যুবক লাভলুর পরিচয় দিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। স্বামী টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা হুমকি দেয়, এসময় স্বামী তার মোবাইল থেকে ভিডিও ধারন করাকালে বাড়ীর লোকজন এড়িয়ে এলে তারা এক পর্যায়ে পিছু হটে চলে যায়। এ ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনুসন্ধানকালে স্থানীয় অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান ওই দুই যুবক মাদকসেবী কিন্তু এত রাত্রে কারো বাড়ীতে যাওয়া কোন সমর্থযগ্য নয় এবং এদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার। তারা দাবী করেন কিন্তু ভিডিও বিশ্লেষণের পর এটুকু বোঝাযায় যে চাঁদাদাবী ও অস্ত্র ঠেকানোর অভিযোগ প্রবাসী সুদীপ্ত নিজেই প্রশ্ন ছুড়ে নিজেই তার উত্তর দিয়েছেন, এটা যথেষ্ট রহস্যজনক। স্থানীয় অনেকে জানান, সুদীপ্তর সাথে লাভলু নামের যুবকের সাথে পুরোনো সস্পর্ক ও যথেষ্ট চেনা-জানা। তাদের অভিযোগ নিজের কথা ভিডিও করে সুদীপ্ত ভিন্ন রাজনীতির খেলা খেলছেন, এমনকি ধর্মীয় ইস্যু বানিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে শান্ত লতা ইউনিয়নকে অশান্ত করতে পায়তারা করছে। এমনকি ভিডিওটি নিয়ে অনেকেই রাজনৈতিক ফয়দা লোটার চেষ্টা করছে। তবে, এ বিষয় লাভলু নামের ঐ যুবক জানান, বরাবরই সুদীপ্তর সাথে আমার ভালো সম্পর্ক এবং এক সময় ভিপি ডিসিআরের জমিতে আমি ছোট্ট একটি ঘেরও করতাম। তিনি দাবি করেন, সুদীপ্তর জমিতে ঘের করার মনোভাব নিয়ে মোবাইলে কথাবার্তা চলছিল এবং ঘটনার পুর্বেও আমি ম্যাসেঞ্জারে সুদীপ্তর সাথে কথা বলার চেষ্টাও করেছি। কিন্তু সে কৌশলে চাঁদাদাবির ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে একদিকে বিপদে ফেলেছেন। তবে, এ ঘটনার পরথেকে সুদীপ্ত ও তার পরিবার প্রশাসনের নিকট নিরাপত্তা দাবী করেছে। প্রবাসি সুদীপ্তর পরিবারের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আওয়াল বলেন ঐ দু’যুবক মাদকের সাথে জড়িত এটা ঠিকই কিন্তু ভিডিও বার্তার বাকি অংশ প্রবাসীর নিজের সৃষ্টি। তিনি আরও বলেন এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুবই ততপর রয়েছে।