👁 454 Views

সব বাধা ও প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে মুখে কলম ধরে দাখিল পাস করলেন সেই  রিয়াদ

নওগাঁ প্রতিনিধি: সব বাধা ও প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে মুখে কলম ধরে দাখিল পাস করলেন সেই  রিয়াদ।

 জানা যায়, প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে খাতার ওপর ঝুঁকে মুখে ধরা কলমটি দিয়ে ধীরে ধীরে অক্ষর লিখছিল রিয়াদ হোসেন। পাশে থাকা অন্য পরীক্ষার্থীরা হাত দিয়ে লিখছে, আর রিয়াদ লিখছে মুখ দিয়ে। তার দুই হাত নেই। তাই লেখার জন্য মুখই তার ভরসা। এইভাবেই পড়াশোনা চালিয়ে এবারের দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ২.৯৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বালিচাঁদ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার এই শিক্ষার্থী।
রিয়াদ হোসেন বালিচাঁদ গ্রামের মো. আইনাল হোসেনের ছেলে ও বালিচাঁদ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
রিয়াদের কাছে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়। দুই হাত না থাকার কারণে ছোটবেলা থেকেই তাকে নানা সীমাবদ্ধতার সঙ্গে পথ চলতে হয়েছে। অন্যদের কাছে যে কাজ গুলো স্বাভাবিক, সেগুলো করতেও তাকে খুঁজে নিতে হয়েছে বিকল্প উপায়। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তাই। মুখে কলম ধরে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলে ধীরে ধীরে এগিয়েছে সে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তার শিক্ষাজীবন সহজ ছিল না। তবে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেনি সে। বরং যত বাধা এসেছে, নিজের মতো করে তা অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে।
মাদ্রাসার শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পড়াশোনার প্রতি রিয়াদের আগ্রহ ছিল প্রবল। মুখে কলম ধরে লিখতে গিয়ে শুরুতে নানা অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে সে এতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। নিয়মিত পড়াশোনা করেছে, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
রিয়াদের এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি তার পরিবার ও শিক্ষকেরা। কারণ, তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথটি অন্যদের মতো সহজ ছিল না। শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দিয়েছে যে তাকে অন্যদের চেয়ে ভিন্নভাবে অনেক কিছু করতে হবে। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতাকে নিজের স্বপ্নের পথে অজুহাত হতে দেয়নি সে।
রিয়াদের স্বপ্ন এখন আরও বড়। সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চায়। শুধু নিজের জন্য নয়, নিজের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছাও রয়েছে তার। সুযোগ পেলে তাদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে চায়, ছড়িয়ে দিতে চায় শিক্ষার আলো।
বালিচাঁদ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) নুরুল ইসলাম বলেন, রিয়াদ শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও লেখাপড়ায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিল। মুখে কলম ধরে লিখে এবারের দাখিল পরীক্ষায় সে উত্তীর্ণ হয়েছে। ভবিষ্যতে সে যেন তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, আমরা তার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি।
নিয়ামতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, রিয়াদ হোসেন শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মুখে লিখে এবারের দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তার এই সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে সে একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে সমাজে অবদান রাখবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, রিয়াদের এই সাফল্য প্রশংসনীয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সে সমাজে অবদান রাখবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *