👁 421 Views

মধুখালীতে জাল সনদে মাদ্রাসায় চাকরি

শাহজাহান হেলাাল,ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি ৬ জুন ২০২৬খ্রি. শনিবারঃ ফরিদপুরের মধুখালীতে উপজেলার কোরকদি ইউনিয়নের বন্দর শংকরপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোঃ আলম হোসেন মোল্যার বিরুদ্ধে জাল সনদে দীর্ঘ ৯ বছর চাকরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারী বিধি মোতাবেক ভোগ করেছেন সকল সুযোগ সুবিধা। এতে সরকারী অর্থ অপচয় হয়েছে। জাল সনদের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসী ২০১৯খ্রি. ইসলামিক ফাউন্ডেশন মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে তিনি ২০১৮ খ্রি. প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ আলম হোসেন মোল্যার বাড়ী উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গামে।সে দীর্ঘদিন ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত বন্দর শংকরপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। লিখিত অভিযোগপত্রে দাবী করা হয়েছে তিনি কখনও কওমি মাদ্রাসায় কিতাব বিভাগে লেখাপড়া না করেই জাল সনদ দাখিল করে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ লাভ করেন। লিখিত অভিযোপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৯ খ্রি.তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক সহকারী পরিচালক তার বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হয়। বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষক,মসজিদ কমিটির সদস্য ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিগণ স্বাক্ষ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পূণঃ ২৮ এপ্রিল ২০২৬খ্রি.ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক গঠিত ৬ সদস্যের একটি তদন্ত বোর্ড অভিযুক্ত শিক্ষককের সনদ যাচাই বাছাই করেন। যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি ছিলেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ সোহরাব হোসেন। যাচাই বাছাই শেষে তদন্ত বোর্ডে দাখিলকৃত সনদ জাল বলে প্রমানিত হয়। তারপরও সে শিক্ষক হিসেবে বহাল থাকার জন্য বিভিন্ন জনে তদবির করছেন।মোঃ আলম হোসেন মোল্যার জাল সনদের বিষয়ে বোর্ডের একাধিক সদস্যের সাথে কথা বললে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারী চাকরির মাধ্যমে বিপুল পরিমান সরকারী অর্থ গ্রহন করেছেন। তার এই জালিয়াতীর কারনে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ চাকরি থেকে অব্যাহতি সরকারী অর্থ ফেরত আদায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী এলাকাবাসীর। অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ আলম হোসেন মোল্যার সাথে তার মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান আমার বিরুদ্ধে যে ব্যাক্তি অভিযোগ করেছেন তিনি সেই যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য।সেখানে আমি কতটুকু ন্যায়বিচার পেতে পারি।আমার সনদপত্র জাল না। আমার সনদে একই ব্যাক্তির একই রকমের স্বাক্ষর রয়েছে।অভিযোগকারীগণ কোথায় পেয়েছে একই ব্যাক্তির দুরকম স্বাক্ষরের সনদপত্র সেটা আমার জানা নাই। ৬ সদস্য বিশষ্ট সনদ যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মুফতি কামরুজ্জামান জানান অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ আলম হোসেন মোল্যাকে তার কাগজপত্রসহ যাচাই বাছাই কমিটির সামনে তাকে হাজির করা হলে সনদীয় পাসের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে কোন বিষয়ে পড়েছেন সেটা তিনি বলতে পারেন নাই।এতে বোর্ডের সদস্যদের প্রতিয়মান হয় যে তার পাসের সনদগুলি সঠিক নয়।
ফরিদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোঃ ইয়াসিন মোল্যা জানান মোঃ আলম হোসেন মোল্যার সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। অধিকতর যাচাই বাছাইয়ের জন্য তার সনদ ও প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরন করা হবে।
মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান জানান এ বিষয়ে অফিসিয়ালী আমার দপ্তরে কোন তথ্য নাই। বিষয়টি ইসলামী ফাউন্ডেশনই ভাল জানেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *