👁 194 Views

উদ্বোধনের আগেই ভালুকা মডেল মসজিদে ফাটল

আতিকুল ইসলাম ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বহুল প্রত্যাশিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় সাত সদস্য বিশিষ্ট হস্তান্তর প্রাক যাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদ ভবনের দেয়াল, প্লাস্টার ও কয়েকটি অংশে ছোট-বড় ফাটলের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটি এখনও উদ্বোধন ও পুরোপুরি ব্যবহার শুরু হওয়ার আগেই এমন অবস্থা দেখা দেয়ায় নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি জানান, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত মসজিদটি এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য একটি বড় সম্পদ। তাই উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দেয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তারা অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়ার পর ঠিকাদার তড়িগড়ি করে কিছু লোক লাগিয়ে ঘষামাজা করে যাচাই কমিটিকে বুঝ দেয়ার পাঁয়তারা করছেন।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের মডেল মসজিদ নির্মাণে অবস্থান ও নকশাভেদে গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ভালুকা মডেল মসজিদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম নাঈমা এন্টারপ্রাইজ। ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ টাকা ব্যয়ে নির্মান হয়েছে তিনতলা ভবন, নারী ও পুরুষের পৃথক নামাজের ব্যবস্থা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ সুবিধা, লাইব্রেরি এবং গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়রা দ্রুত কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে ফাটলের কারণ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনগণের করের টাকায় নির্মিত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার গুণগত মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব।
যাচাই কমিটির সদস্য ভালুকা পৌর বিএনপির আহবায়ক হাতেম খান জানান, কাজটি খুবই নিন্মানের হয়েছে। ফলে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, জেনারেটর দেয়া হয়নি, জাপানী এসি দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে চায়না কোম্পানির। তাছাড়া দরজা সেগুণ কাঠের দেয়ার কথা থাকলেও নিন্মানের কাঠের দরজা দেয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, কমিটির সদস্যদের নিয়ে তিনি পরিদর্শন করে বিভিন্ন স্থানে ফাটলসহ কিছু ক্রুটি পেয়েছেন। ক্রুটিগুলো মেরামত করে কমিটিকে অবহিত করা হলে, আবারো যাচাই করে ক্রুটিমুক্ত পাওয়া গেলেই প্রতিবেদন তৈরী করে নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ফিরোজ হোসেন জানান, ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় মডেল মসজিদটি হস্তান্তর করতে চেয়েছিলো। কিন্তু নেয়া হয়নি। পরে উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজারকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্য বিশিষ্ট হস্তান্তর প্রাক যাচাই কমিটি করে দেয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহমিদ ইফতেখার আলী জানান, ভালুকা মডেল মসজিদটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু ক্রটি থাকায় ঠিকাদারকে বলা হয়েছে ক্রুটিমুক্ত করে দেয়ার জন্য। ঈদের কারণে একটু সময় দেয়া হয়েছে। তবে, খুব শিগগিরই যথযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *