
আকতার হোসেন (রৌমারী কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি) কুড়িগ্রাম রৌমারীতে ভারী বৃষ্টিতে খেতের পাকা ধান ডুবে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে রৌমারী উপজেলার
ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি উজান থেকে আসা ঢলে খেওয়ার চর, আলগার চর, বকবান্দা, চুলিয়ার চর ,ঝাউ বাড়ি বারবান্দা, বড়াই বাড়ি , ফুলবাড়ী, খাটিয়া মাড়ি সহ আরো অনেক সীমান্ত নিচু এলাকাগুলো , পাকা কাঁচা ধান সহ
ডুবে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন এসব অঞ্চলের কৃষকেরা। পরিস্থিতি এমনটা থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় তাঁরা।
জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে রৌমারীর কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। বন্যার শঙ্কায় অনেকে কষ্ট করে হলেও আধা পাকা ধান কেটেও ঘরে তুলতে পারছেন না।
এদিকে ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে এসব নিচু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ-নদীর পানি বাড়ছে
বকবান্দা গ্রামের স্থানীয় কৃষক আমের আলী বলছেন, আমাদের রৌমারী ও রাজিবপুর বড় ক্ষতি হয়েছে গত দুই দিনের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে। পানিতে ফসলের খেত তলিয়ে তো গেছেই, পাশাপাশি রোদের অভাবে শুকাতে না পারার কারণে মাড়াই করা ধানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও অন্তত ২ হাজার ৪৭ হেক্টরের ফসল।
দক্ষিণ আলগার চর গ্রামের মিলন মিয়া বলেন, এখন অতিবৃষ্টি ও ঢলে সব নিচু জমিতে থই থই করে পানি বাড়ছে। কিছু ধান কাটার চেষ্টা করলেও পাওয়া যাচ্ছে না শ্রমিক। এদিকে পানিতে মেশিনও চলে না। সব দিক দিয়ে আমরা বিপদে পড়ছি।
খেওয়ার চর গ্রামের কৃষক খয়ার উদ্দিন ও নইমুদ্দিন বলেন ১০বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করছিলাম জলাবদ্ধতায় ছয় বিঘার ফসল নষ্ট হয়েছে ,তুলেছেন চার বিঘা, বাকি ছয় বিঘা তলিয়ে গেছে। কাটা ধান মাড়াই করে বস্তায় ভরে রেখেছিলেন। সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।
উত্তর আলগার চর গ্রামের আইবাল্লী দোকানদার বলেন ,ধান তো গেছেই, এখন খলার (বস্তা করে রাখা) ধান নষ্ট হচ্ছে। ইবার ধান পাইলাম না আমরা কিভাবে চলতাম চলার তো কোনা উপায় নাই আলগার চর কৃষকদের সর্বনাশ হয়ে গেছে।
খেওয়ার চর গ্রামের কৃষক ভুলু মিয়া ও আমজাদ হোসেন বলেন,টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আমার ৪ বিঘা পাকা ধানের মধ্যে ২ বিঘা কাটার পর কাগজের নৌকা যোগে রাস্তার এনে পরেছি মহাবিপদে, বৃষ্টির কারণে ধান মালাই করতে পারছি না , দ্রুত পানির সরে না গেলে কৃষকদের সর্বনাশ হয়ে যাবে ।