
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের মালতিনগড় গ্রামের নিহত অটোভ্যান চালক নাইম হোসেনের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক এমপি আব্দুল মান্নান তালুকদারের ছেলে রাহিদ মান্নান লেনিন তালুকদার।
বুধবার সকালে রাহিদ মান্নান লেনিন তালুকদারে একটি প্রতিনিধি দল নিহত নাইমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের হাতে ঈদ উপহার, শিশুর জন্য নতুন জামা, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন। এসময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান।
জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল রাতে মাত্র ৫০ টাকা পকেটে নিয়ে অটোভ্যান চালাতে বের হন নাইম হোসেন (২৪)। ঘরে খাবার না থাকায় সেই টাকা দিয়ে চাল কিনে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার আশায় তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন। কিন্তু সেটিই হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ যাত্রা। পরদিন সকালে পাশের খৈচালা গ্রামের একটি বিলের ধারে গলাকাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে অটোভ্যানটি ছিনিয়ে নেয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি খোলা বার্তা অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপরই নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন রাহিদ মান্নান লেনিন তালুকদার।
সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সলঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ধুবিল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হাসান ইমাম তালুকদার সহন, ধুবিল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি স. ম আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, জাতীয়তাবাদী সাইবার দল সলঙ্গা থানা শাখার সভাপতি মো. নুর আলম এবং সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ।
নিহতের স্ত্রী খাদিজা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী সংসারের একমাত্র ভরসা ছিল। তাকে হারিয়ে আমরা পথে বসেছি। আজ যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি শুধু আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই।” এসময় ছোট্ট আল ইমরানের হাতে নতুন জামা তুলে দেওয়া হলে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শিশুটি তার বাবার কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়ে। রাহিদ মান্নান লেনিন তালুকদার বলেন, “মানবিক জায়গা থেকে আমরা এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদেরও এমন অসহায় পরিবারগুলোর পাশে এগিয়ে আসা উচিত।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবারটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও শিশুটির লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।