👁 185 Views

ময়মনসিংহে খাল পুনঃখননের উদ্বোধন, নতুন কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

সালমান সাদিক শাওন, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)  :  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা বলেছিলাম সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে গ্রামাঞ্চলে প্রাইমারি স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চাদের নতুন স্কুলের পোশাক দিব, বই খাতা নেওয়ার জন্য নতুন স্কুল ব্যাগ দেব। সেটির কাজ চলছে। ইনশাল্লাহ জুলাই মাস থেকে সমগ্র বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমিকভাবে সকল প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের কাছে আমরা নতুন কাপড় পৌঁছে দেব, তাদেরকে নতুন স্কুল ব্যাগ পৌঁছে দেব।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ধরার খাল খনন করেছিলেন। বাবার খনন করা খালটি ৪৭ বছর পর পুনঃখননের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২ টা ২১ মিনিটে এসে পৌঁছান৷ গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে খালপাড়ে এসে পথমেই খাল কাটার উদ্বোধন করেন। এ সময় খাল পাড়ে একটি তাল গাছের চারা রোপন করেন প্রধানমন্ত্রী৷ এ সময় ফিতা টেনে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের বাবার দুটি উদ্বোধনী ফলক একই সঙ্গে স্থাপন করা হয় সেখানে। খাল খনন উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিজের বক্তব্যে এই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে এই এলাকার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য দিন। এই যে খাল যেটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুন:খননটা উদ্বোধন করলাম আমরা। এই খালটি আপনারা জানেন, বিশেষ করে মুরুব্বি যারা আছেন, আপনাদের অনেকেরই খেয়াল আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আজ থেকে প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর আগে এই খালটি খনন করতে এসেছিলেন। এই খালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এলাকার মানুষের অনেক সমস্যা হয়েছে, বিশেষ করে কৃষকদের। এই খালটি খনন করে খনন সম্পন্ন হলে এই এলাকার প্রায় চার হাজার ৩০০ কৃষক উপকৃত হবে। প্রায় ২০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে। সমগ্র ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার খাল রয়েছে যেগুলো খনন বা পুনঃখনন করা প্রয়োজন। এই খাল খনন করলে মানুষের উপকার হবে না ক্ষতি হবে। ঠিক একইভাবে কৃষক বলুন, সাধারণ মানুষ বলুন, যাদের পাশ দিয়ে খালটা যাবে তাদের কম বেশি উপকার হবে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা যে বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করেছেন, আমাদের লক্ষ্যই ছিল, আমাদের উদ্দেশ্যই ছিল যে আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা এরকম খাল খনন করব। আমাদের লক্ষ্যই ছিল যে আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে নারীদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য মায়েদের হাতে আমরা, পরিবারভিত্তিক মায়েদের হাতে আমরা ফ্যামলি কার্ড তুলে দেব। সেদিন কাজও আমরা শুরু করেছি। নিশ্চয়ই আপনারা খবরে দেখেছেন। আমরা বলেছিলাম শুধু কৃষকদেরকে খাল খনন না, কৃষকদেরকে সহযোগিতা করার জন্য যাতে বছরে অন্তত একবার হলেও তাদেরকে সরাসরিভাবে আমরা সহযোগিতা করতে পারি। সেজন্য আমরা ফ্যামলি কার্ডের মতন কৃষক ভাইদের কাছে কৃষক কার্ডও দেব। সেদিন কাজও আলহামদুলিল্লাহ আমরা শুরু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী নিজের বক্তব্যে বলেন, আমরা বলেছিলাম যে আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলোর ধর্মীয় গুরুকে সম্মানির ব্যবস্থা করবো। সে কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের অসংখ্যা তরুণ আছে শিক্ষার আলো আছে কিন্তু কর্মসংস্থান নেই। আমরা বলেছিলাম সরকার গঠন করতে পারলে দেশে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউশন আছে এইগুলোকে জোরদার করব। প্রয়োজন হলে আমরা নতুন ব্যবস্থা নেব যাতে করে আমাদের ছেলেরা, আমাদের মেয়েরা টেকনিক্যাল নলেজটা তারা পেতে পারে এবং দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ফলে দেশেই হোক বিদেশি হোক যাতে করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। এই কাজও পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা শুরু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবে দেশও একটা পরিবারের মতন। একটা পরিবারে হয়তো পাঁচজন, সাতজন বা আটজন, দশজন মানুষ থাকে। কিন্তু এই যে বাংলাদেশ নামক বিশাল পরিবার, এই বিশ কোটি পরিবারের জন্য ফ্যামলি কার্ড ব্যবস্থা করা, কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা করা, যারা ইমামা ও খতিব আছেন তাদের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করা, যে সন্তানরা আছে প্রাইমারি স্কুলে তাদের স্কুল ড্রেস তৈরি করা, স্কুল ব্যাগ তৈরি করা, এর বাইরেও এই বিশ কোটি মানুষের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, শিক্ষার ব্যবস্থা করা, সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা, এগুলা কি একদিনে করা সম্ভব? একদিনে করা সম্ভব না। আপনার সংসারে বিভিন্ন রকম সুবিধা অসুবিধা থাকে। মানুষ বিশ বছর, পঁচিশ বছর, পঞ্চাশ বছর, ষাট বছর, সত্তর বছর সংসার করে। কিন্তু টুকটাক সমস্যা তারপরেও তো রয়ে যায়। তাই এখন সংসারে যেমন সমস্যা থাকে, দেশেও সমস্যা থাকে। কিন্তু আমরা যদি সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে এই যে আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনাদেরকে, খাল খনন যদি আমরা করতে পারি তাহলে উপকারটা কাদের হবে? আপনাদের উপকার হবে না ক্ষতি? আপনারা বলেন উপকারটা আপনাদের হবে। ঠিক একইভাবে ফ্যামলি কার্ড যদি আমরা মায়েদের হাতে পৌঁছে দিতে পারি উপকার কার হবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরই হবে। কৃষক কার্ড যদি আমরা পৌঁছে দিতে পারি কৃষকদের হাতে, সারা দেশে প্রায় দুই কোটি পঁয়ষট্টি লক্ষ কৃষক আছে। আমরা যদি এলাকার ভেতরে গ্রামে-গঞ্জে রাস্তাঘাটগুলো, স্কুল কলেজগুলো, ব্রিজ কালভার্টগুলো ঠিক করতে পারি তাহলে মানুষের উপকার হবে। এইভাবে কাজগুলো আমরা করতে চাই।

এতে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ, স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান, সদর আসনের এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের এমপি মোহাম্মদ জাকির হোসেন, গফরগাঁও আসনের এমপি মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *