👁 348 Views

দুপচাঁচিয়ার খানপুর গ্রামের নিজ কন্যার বটির কোপে মারাত্বক রক্তাক্ত জখমী অবস্থায় বৃদ্ধ বেলাল গুরুতর আহত।।।

স্টাফ রিপোর্টার বগুড়াঃ

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের খানপুর উত্তরপাড়া গ্রামে জমিজমা ও বাড়ীঘর দলীল করা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধকে মারপিট করে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যাচেস্টার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় দুপচাঁচিয়া থানায় মামলা নং ৯ তারিখ ১২-৫-২০২৬ ইং থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। থানার এজাহার সূত্রে জানা যায়

বাদী মোঃ আমজাদ হোসেন সরদার (৬৯), পিতা-মৃত হাতেম আলী সরদার, সাং-খানপুর, থানা-দুপচাঁচিয়া, জেলা-বগুড়া থানায় হাজির হয়ে আসামী ১। মোছাঃ মিম আক্তার (২০), পিতা-মোঃ বেলাল হোসেন, সাং-খানপুর, থানা-দুপচাঁচিয়া, জেলা-বগুড়ার বিরুদ্ধে এই মর্মে এজাহার দায়ের করেন যে, বাদীর ছোট ভাই মোঃ বেলাল হোসেন (৫২), পিতা-মৃত হাতেম আলী সরদার, সাং-খানপুর, থানা-দুপচাঁচিয়া, জেলা-বগুড়া শাহারপুকুর বাজারে জনৈক সিদ্দিক এর ধান, চাউলের মিলে বস্তা শেলাইয়ের কাজ করে। তিনি ১৯৯৯ সালে মোছাঃ তহমিনা বেগম (৫০), পিতা-মৃত ময়নুদ্দিন, সাং-কঞ্চিগাড়ী, থানা-দুপচাঁচিয়া, জেলা-বগুড়ার সঙ্গে মুসলিম শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ দেওয়া হয়। বিবাহের পর ঘর সংসার করাকালে তাদের ০৬টি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তার মধ্যে ছোট বেলায় ০৩টি কন্যা সন্তান মারা যায়। জীবিত ০৩টি কন্যা সন্তানের মধ্যে ১। মোছাঃ বেবী (৩২) ও ২। মোছাঃ মিতু আক্তার (২৭) কে বিবাহ দেওয়া হয়। উক্ত আসামী সরকারি মজিবর রহমান মহিলা কলেজে অনার্স বিষয়ে লেখাপড়া করে আসছেন। গত ১১/০৫/২০২৬ খ্রিঃ দিনগত রাত অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে আমার ভাইয়ের কোন ছেলে সন্তান না থাকায় তার মেয়ে এবং স্ত্রী মাঝে মধ্যে পৈত্রিক সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য বলে। আমার ছোট ভাই তার সম্পত্তি লিখে না দিলে তার ছোট মেয়ে উক্ত আসামী মাঝে মধ্যেই আমার ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া ঝাটি করাসহ খারাপ আচরণ করিত। দুপচাঁচিয়া থানাধীন তালোড়া ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে তার বসত বাড়ির শয়ন কক্ষে শুয়ে পড়ে। ১২/০৫/২০২৬ খ্রিঃ রাত অনুমান ০০.৩০ ঘটিকার সময় আমার ভাতিজি উক্ত আসামী রান্না ঘর হতে ধারালো বাটিদা নিয়ে অতর্কিতভাবে আমার ছোট ভাইয়ের শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে তার হাতে থাকা বটিদা দিয়ে আমার ছোট ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় পর পর ০২টি কোপ দিলে উক্ত কোপ আমার ছোট ভাইয়ের গলার ডান হাতে থাকা বটিদা দিয়ে পুনরায় ২/৩ টি কোপ দিলে উক্ত কোপ আমার ছোট ভাই ডান ও বাম হাত দ্বারা ঠেকালে তার ডান হাতের ০৫টি আঙ্গুল ও বাম হাতের শাহাদত আঙ্গুলে লেগে মারাত্মক কাটা জখম হয়। তখন আমার ছোট ভাই চিৎকার করতে থাকলে আমিসহ সাক্ষী ১। মোঃ জহুরুল ইসলাম (৪৮), পিতা-মোঃ আমজাদ হোসেন সরদার, ২। মোঃ জিল্লুর রহমান (৪০), পিতা-মোঃ রফিকুল ইসলাম, ৩। মোঃ মোজাম্মেল হক (৪৭), পিতা-মোঃ আব্দুর রহমান, সকলের সাং- খানপুর, থানা-দুপচাঁচিয়া, জেলা-বগুড়াগণসহ আরো লোকজন গিয়ে উক্ত আসামীর কবল হতে আমার ভাইকে উদ্ধার করি। পরে আমার ভাইয়ের নিকটে ঘটনাবলী শুনে তাকে চিকিৎসার জন্য জনৈক জুলুন এর সিএনজি অটোরিক্সা যোগে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে জরুরী বিভাগের ডাক্তার আমার ভাইয়ের অবস্থা গুরুতর দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বগুড়ায় রেফার্ড করেন। তখন আমার ভাইকে উক্ত সিএনজি অটোরিক্সা যোগে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বগুড়ায় নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে দেই। আমার ছোট ভাইয়ের চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত থাকায় ও আত্মীয় স্বজনের সহিত পরামর্শ করে থানায় এসে এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হলো।

 

এজাহারে আরও বলা হয় হামলাকারীরা নিজের কন্যা দুইজন হলো মীম ও মিতু। তাছাড়াও কাহালু উপজেলার বিবিরপুকুর লোহাজাল গ্রামের সালামের স্ত্রী মালেকা খাতুনও এহত্যা চেস্টাকারিদের মধ্যে রয়েছেন  বলে ভিকটিম তার নাম উল্লেখ করেন।

এই বিষয়টি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভিকটিম বেলাল সরদার নিজেই সাংবাদিকদের এ তথ্য ভিডিও কলে জানিয়েছেন।

এদিকে  এই হত্যা চেস্টাকারীরা ব্যাথ হয়ে বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ চিকিৎসাধীন ভিকটিম বেলাল সরদার কে মানসিক রোগী বলে খানপুর গ্রাম এলাকায় প্রচার করে আসছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই নাসিরুল ইসলাম  জানান, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।মামলায় অভিযুক্ত  প্রমাণিত হলে নিয়মিত হত্যা চেষ্টা মামলায় হতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *