👁 268 Views

পাবনা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : নিত্য পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে এবং জ্বালানি তেল সঠিকভাবে বিতরণ বিষয়ক পাবনায় জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ) দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সালমা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) পাবনা জেলা শাখার সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পাবনা চেম্বারের পরিচালক আলহতাজ শফিকুল ইসলাম খান, ক্যাব যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক-সাংবাদিক শফিক আল কামাল, বিএসটিআই পাবনা আঞ্চলিক কার্যলয়ের কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, পাবনা চেম্বারের সচিব আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সভায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য সাধারণ ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বাজারে অযৌক্তিক পেট্রোল অক্টেন ডিজেল মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, ভেজাল ও মানহীন পণ্য উৎপাদন এবং মিথ্যা বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, রমজান মাসে যাতে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। ভোক্তার অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাবেন।
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ঢাকা ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে মঙ্গলবার ঢাকা ফিরেছেন। সকাল ১১টা ৯ মিনিটে পাবনার শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়াম থেকে হেলিকপ্টারে পাবনা ত্যাগ করেন। এ সময় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. শাহজাহান, পাবনা জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান। এর আগে তিনি(রাষ্ট্রপতি)২৮ মার্চ ৬ষ্ঠ বারের মত চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা পাবনায় আসেন। পাবনার কৃতী সন্তান মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার ২০২৩ সালের ১৫ মে পাবনায় সফরে আসলে তাকে ১৬ মে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে স্মরণকালের বৃহত্তম নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়। পরে রাষ্ট্রপতি আরো ৪বার নিজ জেলা সফরে আসেন। শেষবারে তিনি গত বছর ইউনুস সরকারের কড়া শৃংখলে নভেম্বরে সীমিত কর্মসুচিতে পাবনায় আসেন এবং বাবা-মার কবর জিয়ারত করে একদিন পরই ঢাাকয় ফিরে যান। তাঁর এবারের সফর ছিল অনেকটা প্রাণবন্ত। তিনি ২৮ মার্চ  দুপুর পৌলে ১টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে পাবনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে পৌঁছান। সেখান থেকে সরাসরি পাবনা সার্কিট হাউসে পৌঁছেন। পরদিন ২৯ মার্চ সকালে পাবনার কেন্দ্রীয় আরিফপুর গোরস্থানে বাবা-মার কবর জিয়ারত করেন এবং সন্ধ্যায় তাঁর প্রিয় প্রতিষ্ঠান পাবনা প্রেসক্লাবে যান ও সতীর্থ সাংবাদিক সহকর্মীসহ বাল্যবন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা আননন্দঘন সময় কাটান। রাষ্ট্রপতি ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী পাবনা প্রেসক্লাবের ২২তম সদস্য(সম্মানিত জীবন সদস্য)। ৩০ মার্চ সকাল ১১টায় সদর উপজেলার ভবানীপুর তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত একটি মসজিদ পরিদর্শন করেন। পরে সন্ধ্যায় শহরের বীর মুক্তিযেদ্ধা সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বিন্দোন পার্ক(সাবেক জুবিলী ট্যাঙ্ক)সংলগ্ন নিজ বাসভবনে যান। এদিন রাস্ট্রপতি পাবনার জেলা ও দায়রা জজ এর নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের(বিচারকদের) সঙ্গে, চেম্বার অব কমার্সের নেতদের সঙ্গে ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে দেখা করেন ও কুশল বিনিময়করেন। পরই ঢাাকয় ফিরে যান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এরঁ জন্ম এবং বেড়ে ওঠা পাবনায়। তিনি ¯œাতক এবং এলএলবি পড়েছেন পাাবনায়। পরে এমএসসি ডিগ্রি নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তিনি রেড ক্রিসেন্ট এর জেলা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পাবনায় সাংবাদিকতা করেন। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত পাবনা প্রেস ক্লাবের তিনি ২২তম সদস্য। ছাত্র রাজনীতিসহ নানা সমাজসেবা কর্মকান্ডে নিয়োজিত ছিলেন। রাস্ট্রপতিকে নিয়ে পাবনাবাসীর আবেগের শেষ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *