
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় জি–৭ ভুক্ত দেশগুলো তাদের ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বা কৌশলগত তেল মজুত থেকে বাজারে তেল ছাড়ার বিষয়টিকে সমর্থন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘোষণা মূলত বাজারকে স্থিতিশীল রাখার একটি কৌশল। তবে প্রশ্ন উঠেছে—এই কৌশলগত তেলের মজুত কোথায় থাকে এবং তা বাজারে ছাড়া হলে বাস্তবে কী পরিবর্তন হতে পারে।
বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলায় International Energy Agency–এর সদস্য দেশগুলোকে কমপক্ষে ৯০ দিনের তেল মজুত করে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই তেল কোনো একক ভৌগোলিক স্থানে সংরক্ষণ করা হয় না; বরং বিভিন্ন তেল কোম্পানি, টার্মিনাল ও শোধনাগারে তা সংরক্ষিত থাকে।
উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যে শেল বা বিপির মতো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন টার্মিনাল ও শোধনাগারে এই তেল মজুত করে রাখে। এমনকি অন্য কোনো স্থানে সংরক্ষিত তেলও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার অর্থ এই নয় যে বাজারে হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ তেলের সরবরাহ বেড়ে যাবে। বরং এর ফলে শোধনাগারগুলোর জন্য বাজারে তেল কিছুটা সহজলভ্য হয়।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তেল শোধনের সক্ষমতায় ঘাটতি থাকায় মজুত তেল ছাড়ার অর্থ এই নয় যে পেট্রোল বা জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত পণ্যের সরবরাহ সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাবে।
এছাড়া প্রায় ১২০ কোটি ব্যারেল মজুদের মধ্য থেকে বারবার বিপুল পরিমাণ তেল ছাড়াও সম্ভব নয়। তাই এই ধরনের ঘোষণা অনেক সময় বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই বাজারকে আশ্বস্ত করার একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত তেল মজুত ছাড়ার বিষয়ে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা আসলে একটি সংকেত—যার মাধ্যমে সরকারগুলো বোঝাতে চায় যে তারা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং প্রয়োজন হলে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
সংক্ষেপে বলা যায়, এই পদক্ষেপে তেলের দাম হয়তো সরাসরি কমবে না, তবে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।