👁 239 Views

বাড়িভাড়া মওকুফের লোভে ৬০ বছরের বৃদ্ধের বিছানায় ২২ বছরের গার্মেন্টস কন্যা!

রিপোর্টার বগুড়াঃ

বাড়িভাড়া মওকুফের লোভে ৬০ বছরের বৃদ্ধের বিছানায় ২২ বছরের গার্মেন্টস কন্যা! মাসের পর মাস ভাড়া না দেওয়ার সুযোগ নিয়ে কি অসহায় মেয়ের শরীর ভোগ করলেন মিরপুরের কোটিপতি বাড়িওয়ালা?

মিরপুরের ওই পাঁচতলা বাড়িটার দিকে তাকালেই বোঝা যায় কাদের সাহেব কতটা বিত্তবান। কিন্তু এই বিশাল অট্টালিকার সবচেয়ে উপরের তলার ছিমছাম ফ্ল্যাটটায় যখন রাতের বেলা তিনি একা বসে থাকতেন, তখন তার মনে হতো তিনি যেন এক বিশাল কবরস্থানে বেঁচে আছেন। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ছেলেমেয়েরা যে যার মতো আলাদা ফ্ল্যাটে চলে গেছে। মাসে একবার হয়তো ফোনে কথা হয়, “বাবা, ওষুধ খেয়েছো?”—ব্যাস, এটুকুই। কাদের সাহেবের জীবনটা আটকে ছিল এক অদ্ভুত শূন্যতায়।

সেই বাড়িরই একতলার ছোট চিলেকোঠায় সাবলেট থাকত রুমি। ২২ বছরের রুমি প্রতিদিন সকাল আটটায় মেশিনের শব্দে জীবন মেলাতে গার্মেন্টসে ছুটত, আর ফিরত রাত দশটায়। গ্রামে তার বাবা ব্রেইন স্ট্রোক করে বিছানায় পড়ে আছে। ওষুধের টাকা পাঠাতে গিয়ে গত তিন মাস ধরে রুমির ঘরভাড়া দেওয়া হয়নি। ম্যানেজার একদিন কড়া ভাষায় জানিয়ে দিল, “কালকের মধ্যে ভাড়া না দিলে তোর জিনিসপত্র রাস্তায় ফেলে দেব।”

সেদিন রাতে সিঁড়ির নিচে বসে রুমি যখন ডুকরে কাঁদছিল, তখন কাদের সাহেব মসজিদ থেকে ফিরছিলেন। মেয়েটার কান্না শুনে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। সব শুনে কাদের সাহেবের বুকে কেমন যেন একটা মোচড় দিল। তিনি ম্যানেজারকে ডেকে বললেন রুমির ভাড়া মওকুফ করে দিতে। শুধু তাই নয়, তিনি রুমিকে প্রস্তাব দিলেন, “মা রে, তুই সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটস। আমার তো বিশাল ফ্ল্যাটে আমি একা। আমার রান্নার বুয়াটাও ঠিকমতো আসে না। তুই যদি চাস, কাজ থেকে ফিরে আমার এখানে দুটো রান্না করে দিয়ে খেয়ে যাবি। তোর আর ভাড়া দেওয়া লাগবে না।”

রুমির কাছে কাদের সাহেব ছিলেন এক দেবতার মতো। সে রাজি হয়ে গেল। কিন্তু এই সমাজ এত সহজ নয়। ঢাকা শহরের মানুষ খুব দ্রুত গসিপ বানাতে পারে। কয়েকদিনের মধ্যেই পাড়ায় কানাঘুষা শুরু হলো— “গার্মেন্টসের মেয়েগুলো এমনই হয়! টাকার লোভে এখন বুড়ো বাড়িওয়ালার বিছানা গরম করছে।” রুমির কানেও কথাগুলো যেত। তার ভেতরে এক তীব্র ‘ইনার কনফ্লিক্ট’ বা মানসিক দ্বন্দ্ব শুরু হলো। সে ভাবত, “আমি তো কোনো পাপ করছি না। মানুষ কেন এত নোংরা কথা বলে?” সে কাদের সাহেবের বাসা থেকে চলে আসতে চাইল।

কিন্তু কাদের সাহেব তাকে যেতে দিলেন না। এই কয়েক মাসে রুমি কাদের সাহেবের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গিয়েছিল। রুমি যখন রান্নাঘর থেকে তরকারির স্বাদ পরখ করতে বলত, তখন কাদের সাহেবের মনে হতো এই বাড়িটা আবার জ্যান্ত হয়ে উঠেছে। আর রুমি? সে এই ৬০ বছরের বৃদ্ধের মাঝে খুঁজে পেয়েছিল একজন বাবার ছায়া, একজন অভিভাবকের নিরাপত্তা, আর এমন এক ভালোবাসা যা সে তার জীবনে কখনো পায়নি। কাদের সাহেব তাকে গার্মেন্টসের অমানুষিক খাটুনি থেকে ছাড়িয়ে এনে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন। বয়সের পার্থক্য ৩৮ বছর হলেও, তাদের আত্মিক সম্পর্কটা ছিল একদম খাঁটি।

কিন্তু আসল ঝড়টা এল ঈদের আগের দিন। কাদের সাহেবের বড় ছেলে আর ছেলের বউ হঠাৎ বাসায় হাজির। তারা এসে দেখল রুমি সোফায় বসে টিভি দেখছে আর কাদের সাহেব তার জন্য চা বানাচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখে ছেলের বউয়ের চোখ কপালে উঠল। তারা বুঝল, এই গার্মেন্টস কর্মীর নজর তাদের বাবার কোটি টাকার সম্পত্তির দিকে।

ষড়যন্ত্র শুরু হলো। পরদিন সকালে ছেলের বউ চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তুলল— তার তিন ভরি ওজনের সোনার চেইন চুরি গেছে! আর কোনো প্রমাণ ছাড়াই সে সোজা রুমির দিকে আঙুল তুলল। “এই ছোটলোকের বাচ্চা, গার্মেন্টসের বস্তি! তুই ভেবেছিস বাবার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আমাদের সম্পত্তি হাতাবি? বের হ এই বাড়ি থেকে!” ছেলেটাও রুমির গায়ে হাত তুলতে গেল। বিল্ডিংয়ের সব ভাড়াটিয়া তখন দরজায় ভিড় জমিয়েছে। রুমি ফ্লোরে বসে অঝোরে কাঁদছিল। তার মনে হচ্ছিল, গরিব হওয়াটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় পাপ। সে তার ছেঁড়া ব্যাগটা গুছিয়ে দরজার দিকে পা বাড়াল।

ঠিক তখন একটা বজ্রকঠিন আওয়াজ পুরো ড্রয়িংরুম স্তব্ধ করে দিল। “দাঁড়াও রুমি!” কাদের সাহেব তার ছেলের সামনে এসে দাঁড়ালেন। তার চোখ দুটো রাগে জ্বলছিল।

তিনি তার ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন, “গত পাঁচ বছরে একবারও দেখতে আসিসনি আমি বেঁচে আছি নাকি মরে গেছি। আজ এসেছিস সম্পত্তির ভাগ নিতে? আর তুই ওকে চোর বলছিস? ও চোর নয়। তোরা চোর! তোরা আমার শান্তি, আমার শেষ বয়সটা চুরি করে নিয়েছিলি।”

এরপর কাদের সাহেব যা করলেন, তার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না। তিনি রুমির হাতটা শক্ত করে ধরে ভরা মজলিসে সবার মুখের ওপর বললেন, “রুমি আমার কাজের মেয়ে না। গত শুক্রবার কাজী অফিসে গিয়ে আমি রুমিকে আইনিভাবে বিয়ে করেছি। ও এই বাড়ির মালিক, ও আমার স্ত্রী। আর তোরা যদি ওর দিকে আঙুল তুলিস, আমি তোদের ত্যাজ্যপুত্র করে এই বাড়ি থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব!”

ছেলের বউ আর ছেলে স্তব্ধ হয়ে গেল। সমাজ, প্রতিবেশী যারা রুমিকে অপবাদ দিচ্ছিল, তারা মাথা নিচু করে রইল। রুমি অবাক হয়ে কাদের সাহেবের দিকে তাকাল। সে বুঝতে পারল, এই বৃদ্ধ মানুষটা নিজের সম্মান, পরিবার সব কিছু বাজি রেখে তাকে সমাজের এই নোংরা নখ থেকে বাঁচিয়েছেন।

কাদের সাহেব তার সন্তানদের সেদিনই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। আজ রুমি আর কাদের সাহেব ওই পাঁচতলার ফ্ল্যাটেই থাকেন। সমাজ হয়তো এখনো তাদের এই অসম বয়স নিয়ে কথা বলে, কিন্তু তারা জানে তাদের সম্পর্কের গভীরতা কতটা। রুমি প্রমাণ করেছে যে সে টাকার লোভে নয়, ভালোবাসার টানেই কাদের সাহেবের হাত ধরেছে। আর কাদের সাহেব প্রমাণ করেছেন, একজন সত্যিকারের পুরুষ তার স্ত্রীকে সমাজের সব অপবাদ থেকে এভাবেই রক্ষা করে। ভালোবাসা কোনো বয়সের ফ্রেম বা ব্যাংক ব্যালেন্সের হিসাব মেনে চলে না, ভালোবাসা কেবল দুটো নিঃসঙ্গ আত্মার এক হওয়ার গল্প।

🌸 গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন! এমন বাস্তব, হৃদয়ছোঁয়া ও অনুপ্রেরণামূলক গল্প নিয়মিত পেতে আমাদের পেজটি ফলো দিয়ে পাশে থাকুন। ⭐ আপনার একটি স্টার আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *