👁 375 Views

নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪

ইসাহাক আলী, নাটোর থেকে : নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রদান করে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি ও নিহতদের ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নিহত পরিবারগুলোকে এক লক্ষ টাকা করে প্রদানের ঘোষণা ও রাস্তা প্রশস্ত করনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোরের স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরআদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ারুল হক (৩০), পটুয়াখালী জেলমির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহীদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জহরউদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৪০), একই উপজেলার  ডুবি সাহাপুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ (৩০) ও জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে আব্দুস সালাম মোল্লা (৪৬)।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, নাটোর থেকে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে শরীয়তপুর থেকে চঁাপাইনাবগঞ্জগামী যাত্রীবাহী বাস আরপি স্পেশালের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরো ৪ জন মারা যান।  নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে বলে জানান তিনি।
নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আক্তার হামিদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পেঁৗছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নাটোরের স্থানীয় হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকে পড়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাসের আহত যাত্রী চঁাপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর এলাকার রমজান আলী জানান, ট্রাকটি তার সঠিক লেনেই ছিল। বাসের চালক উল্টা লেনে গিয়ে ট্রাকের সামনে মেরে দিয়েছে। সম্ভবত আমদের বাসের চালক ঘুমিয়ে গিয়েছিল।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি রাস্তার ওপর থাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে যান জাতীয় সংসদের হুইপ এডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক, পরাজিত সংসদ সদস্য প্রার্থী জামায়াত নেতা আব্দুল হাকিম সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তা বৃন্দ।
এ সময় রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন , জনগুরুত্বপূর্ণ হলেও মহাসড়কটি সরু ও ব্যস্ততম হওয়ায় নিয়মিত দূর্ঘটনা ঘটছে। অকালে ঝরে যাচ্ছে অনেক তাজা প্রাণ আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অনেকেই। তাই রাস্তাটি ফোরলেন বা সিক্স লেন করতে সরকারি উদ্যোগ নেয়ার ব্যাপারে যোগাযোগ মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।
জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, আমরা এরই মধ্যে নিহতদের ও আহতদের উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াত কে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার শরীফুল হক বলেন, ইতিমধ্যে ১০  জনের পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে বাকিদের পরিচয় নির্ণয় করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
উল্লেখ্য এর আগে ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর একই উপজেলার রেজুর মোড় এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩৮ জন।