👁 493 Views

চাকরির নামে প্রতারণা :  নওগাঁয় যুবদল নেতার ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেন আরেক যুবদল নেতা

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় দলিল লেখক সমিতির মুহুরি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী এমদাদুল হক পিন্টু মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়ন যুবদলের একজন সদস্য। এ ঘটনায় প্রতিকার ও দলীয় ব্যবস্থা চেয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কাছেও পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৫ জুন প্রসাদপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পিন্টুর স্ত্রীর কাছ থেকে আট লাখ টাকা নেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল। তবে নির্ধারিত সময়ে চাকরি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তিনি তালবাহানা শুরু করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় কতিপয় বিএনপি নেতাদের চাপে ও মধ্যস্থতায় মাত্র দুই লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ছয় লাখ টাকা এখনো ফেরত পাননি ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ।

ভুক্তভোগী এমদাদুল হক পিন্টু সাংবাদিকদের জানান, চাকরির আশায় চাষের কৃষি জমি ও স্ত্রীর সোনার গয়না বন্ধক রেখে তিনি ওই টাকা জোগাড় করেছিলেন। গত ২০ বছর ধরে দলের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার পরও নিজ সংগঠনের নেতার হাতে এভাবে প্রতারিত হতে হবে তা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি। এমন প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি এখন পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়েছেন।  ঋণের সুদের চাপে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

তবে মান্দা উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের অংশ হিসেবে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি পক্ষ এই মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

 এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জানানো হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে; তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই যুবদল সভাপতির বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।