👁 354 Views

ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুর মরদেহ শনাক্ত

 

ঘোড়াঘাট প্রতিনিধি ঃ-
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় শিশুর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মরদেহটি ৯ বছরের তাসপিয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তাসপিয়া রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার লালদীঘি গ্রামের বাসিন্দা লিজার প্রথম ঘরের সন্তান।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার ভর্ণাপাড়া টঙ্গী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন করতোয়া নদীতে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া এবং পরে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর সে সাফিউল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে দাদা-দাদির কাছে থাকত। সাফিউল ঘোড়াঘাটের ভর্ণাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র জানায়, লিজা ও সাফিউল দুজনই ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রব্বানী জানান, গত শুক্রবার সাফিউল তাসপিয়াকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। পরে রোববার বিকেলে বিরামপুরের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর কথা বলে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে সাফিউলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলার বিন্যাগাড়ি রোডের জোবাইদা মহিলা মাদ্রাসার পরিচালিকা রুমিছা খাতুনও তাসপিয়াকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রুমিছা খাতুন বলেন, শুক্রবার এক ব্যক্তি তাসপিয়াকে মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে নিয়ে আসেন। ভতির জন্য জন্মনিবন্ধন, পরিচয়পত্র, ছবি, অভিভাবকের মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রায় ১৮ হাজার টাকা লাগবে বলে তাকে জানানো হয়। ওই ব্যক্তি কাগজপত্র ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তাসপিয়াকে মাদ্রাসায় রেখে যান।

তবে শিশুটির পরিবারের বিষয়ে সন্দেহ হওয়ায় শনিবার রুমিছা খাতুন উল্লাপাড়ায় তাসপিয়ার দাদির বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেন। পরে রোববার সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে ওই ব্যক্তি কিছু কাগজপত্র ও ছবি দিয়ে তাসপিয়াকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যান। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

রুমিছা খাতুন বলেন, ওই দিন রাত ৯টা ১৬ মিনিটে তাসপিয়া নিজেই ফোন করে জানায়, তাকে অন্য একটি মাদ্রাসায় রাখা হয়েছে। এরপর শিশুটির সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, তাসপিয়ার মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

ওসি আরও বলেন, তাসপিয়ার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *