👁 182 Views

পাইকগাছায় বিজ্ঞানী পিসি রায়ের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী ; রাড়ুলীর জন্মভিটাকে ‘বিজ্ঞান পর্যটন কেন্দ্র’ ঘোষণার দাবি

​কৃষ্ণ রায়,পাইকগাছা (খুলনা) ​উপমহাদেশের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, রসায়নবিদ ও বেঙ্গল কেমিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা স্যার আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র (পিসি) রায়ের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী তাঁর জন্মভূমি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) আলোচনা সভা, শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা, পরিবেশবান্ধব চারা বিতরণ ও ঐতিহাসিক জন্মভিটা পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই মহান বিজ্ঞানীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। ​বিজ্ঞানীর ঐতিহ্যবাহী জন্মভিটায় আয়োজিত আলোচনা সভায় খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন। এসএফডিএফ কর্মকর্তা জি, এম, জাকারিয়া ও প্রভাষক লৎফা ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কানিজ ফাতিমা লিজা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মুহিদুল ইসলাম এবং সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) আমির হামজা। ​সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডাঃ আব্দুল মজিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী রুহুল আমিন, ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক দিদারুল আলম, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মমিন সানা, কাজী সাজ্জাদ আহমেদ মানিক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জয়ন্ত কুমার ঘোষ এবং প্রধান শিক্ষক গৌতম ঘোষ। ​আলোচনা সভায় বক্তারা পিসি রায়ের ঐতিহাসিক ‘মারকিউরাস নাইট্রাইট’ আবিষ্কার, কালজয়ী গ্রন্থ ‘হিন্দু রসায়নের ইতিহাস’ রচনা এবং ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল কেমিক্যালের মাধ্যমে ভারতবর্ষে শিল্প উদ্যোগের দূরদর্শী ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বক্তারা রাড়ুলী গ্রামকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বিজ্ঞান পর্যটন ও গবেষণা কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞান জাদুঘর স্থাপনের জোর দাবি জানান। এছাড়া পিসি রায়ের মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও দেশের প্রথম বালিকা বিদ্যালয় ‘ভূবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়’ অতিদ্রুত সরকারীকরণের আহ্বান জানান উপস্থিত সকলে। ​অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিজ্ঞানীর জীবন ও কর্মের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় অতিথিবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয় এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের বিজ্ঞানীর ঐতিহাসিক জন্মভিটা পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *