
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), চট্টগ্রাম বিভাগ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
১৩ জুলাই(সোমবার) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আইএসপিএবি চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার রুবেন্স বলেন, ডিডিএন কার্যালয়ে চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নয়, বরং দেশের পুরো আইএসপি খাতের নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইএসপি প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের কাছে চাঁদা দাবি, টেলিফোনে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প-কারখানা, ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং সরকারি-বেসরকারি প্রশাসনিক কার্যক্রম এখন নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবার ওপর নির্ভরশীল। ফলে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারলে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইএসপিএবি সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো— ডিডিএন কার্যালয়ে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, দেশের সব আইএসপি প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইএসপি খাতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও হয়রানির প্রতিটি ঘটনার কঠোর তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইএসপি খাতে নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশের ইন্টারনেট সেবা সচল রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে জনস্বার্থ বিবেচনায় রেখেও আইএসপি খাতকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
এর আগে সোমবার দুপুরে নগরীর এক্সেস রোড এলাকায় ডিডিএনের কার্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীর নাম উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া হামলার আগে ডেভিড ইমন পরিচয়ে মুঠোফোনে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা দাবী ও হুমকির অডিও রেকর্ডটি সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইর্যাল হয়ে পড়লে জনমনে প্রচন্ড ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে হতাশার চাপ দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ইমন সাজ্জাদ বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক, অন্তত ছয়টি হত্যা মামলা রয়েছে।