
আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের ভিড় থাকলেও, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও সহায়ক কর্মীর অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী। রোগীদের এই অসহনীয় ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সারি। হাসপাতালের টিকেট কাউন্টারে ভিড় ঠেলে সেবা নিশ্চিত করতে রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসকের দেখা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং ভিড়ের কারণে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার দৃশ্য এখানে নিত্যদিনের। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগী মেঝেতে বা বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে চিকিৎসকের মোট ৩১টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ২০ জন। বিশেষ করে গত তিন মাস ধরে হাসপাতালে কোনো গাইনোকোলজি বিশেষজ্ঞ নেই। এতে সন্তানসম্ভবা নারীরা নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা গর্ভবতী মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে মারাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীদের ৩৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় প্রশাসনিক ও জরুরি সেবার মান বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “এখানে সেবা নিতে আসা যেন এক যুদ্ধ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও আশানুরূপ সেবা পাওয়া যায় না। ডাক্তার ও জনবলের সংকটে রোগীদের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।”
জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। চিকিৎসকের শূন্য পদগুলোসহ অন্যান্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ আবেদন করা হয়েছে। জনবল সংকট নিরসন হলে রোগীদের সেবার মান এবং দুর্ভোগের চিত্র অনেকাংশে ইতিবাচক পর্যায়ে চলে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।”
উপজেলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ প্রদান এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিকে সচল রাখতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।