
তছলিম উদ্দীন,সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা মরা গাছগুলি এখন পথচারীসহ এলাকার মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়ে দাঁড়িয়েছে আছে । দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এসব গাছে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে, এমন আতঙ্ক ও আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করছে ওই এলাকার পথচারী সহ সকল ধরণের যানবাহন। প্রতিনিয়ত ছোটো-খাটো দুর্ঘটনাও ঘটে চলেছে।
দীর্ঘ দিন ধরে গাছগুলি মৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও সরকারের কোন পক্ষই গাছগুলি কর্তনের ব্যবস্থা করছেনা ফলে দিনে দিনে মরা গাছগুলি এখন ভয়ংকর অবস্থায় দঁড়িয়ে রয়েছে।
কোন কোন রাস্তায় চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও এসব মরা গাছগুলো কাটার কোনো ব্যবস্থা না করায় তা ঝুঁকিপূর্ণ ও মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অল্প বাতাসেই ভেঙে পড়ছে মরা গাছ ও গাছের ডালপালা। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটোখাটো দুর্ঘটনা। ঝুঁকি নিয়েই রাস্তায় চলাচল করছে পথচারীরা এবং রাস্তার পাশের্^র জমিতে আবাদ করছে জমির মালিকরা।
সাপাহার বনবিট অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলছেন রাস্তা সহ যে কোন বনবিটে টেন্ডার কার্যক্রম চলমান রয়েছে, সাপাহার নির্বাহী অফিসার গাছ রোপন বিভাগগুলির কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিলেই আমরা মূল্য নির্ধারণ করে মৃত গাছগুলি কর্তনের ব্যাবস্থা গ্রাহন করব।
নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুস সালাম সহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ভ্যানচালক ও পথচারীরা জানান, প্রতিদিন তাদেরকে এই রাস্তাগুলি দিয়ে দিনে এবং রাতে অনেক বার চলাচল করতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। কয়েকদিন আগেই দিনের বেলায় এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি চুরি করে রাস্তার মরা গাছ কটতে গিয়ে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এক মেয়ে শিক্ষার্থী রাস্তায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মর্মান্তিক আহত হয়। এছাড়া বেশ কয়েকদিন পূর্বে বাসুল ডাঙ্গা মোড়ের অদুরে সাপাহার-গোদাগাড়ী হাইওয়ে রাস্তায় রাতের বেলায় আকষ্মীক একটি গাছ ভেঙ্গে পড়লে রাস্তায় চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনগুলি ডাকাত রাস্তায় গাছ ফেলেছে ভেবে থানা পুলিশে সংবাদ দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখতে পায় কোন চোর বা ডাকাত নয় বাতাসে রাস্তার পাশের মরা গাছ ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে রাস্তা বেরিকেড হয়ে গেছে। পুলিশ সদস্যরা রাস্তা হতে ভেঙ্গে পড়া মরা গাছ সরিয়ে রাস্তায় জান চলাচল ক্লিয়ার করেন।
সামনে আসছে চৈত্র-বৈশাখ মাস কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে রাস্তার পাশের মরা গাছগুলি ভেঙ্গে পড়ে অনেক প্রাণহানী ঘটতে পারে বলে বাসুলডাঙ্গা গ্রামের আজমির, দেলোয়ার নামের ভ্যান চালক ও ভ্যান যাত্রীরা বলেন, একটু বাতাস হলেই এই রাস্তাা দিয়ে অত্যান্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সবাইকে, না জানি কখন কার মাথার উপর ভেঙে পড়ে গাছগুলি। কেন যে এসব গাছ কাটা হচ্ছে না আমরা কেউ তা জানি না। উপজেলাবাসী তথা ওই পথগুলি দিয়ে হরহামেশা চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহন চালকরা দ্রুত রাস্তার পাশের্^র এই ভয়ংকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা মরা গাছগুলি কর্তন করে পথচারী ও যানবাহন চালকসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে।
সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন চলাচলকারী রাস্তা ও সাপাহার-গোদাগাড়ী হাইওয়ে রাস্তার একাধিক স্থান সহ বাসুলডাঙ্গা মোড়ে সর্বাধিক মরাগাছগুলি সারি সারি দাঁড়িয়ে রয়েছে।
এ ব্যাপারে গত ১২মার্চ সাপাহার উপজেলা নির্বাহি অফিসের মাসিক আইশৃংখলার মিটিংএ প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক তছলিম উদ্দীন বিষয়টি উল্থাপন করলে সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও উপস্থিত সকলেই মরা গাছের বিষয়ে একমত পোশন করেন। শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমান রিয়াজ অচিরেই বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি ও বন কর্মকর্তাদের নিয়ে মিটিং করে মরা গাছগুলি কর্তনের আশ^াস প্রদান করেন।