👁 181 Views

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে জাতীয় বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী অবদান রাখবে।

রোববার (৮ মার্চ) সকালে মন্ত্রী প্রকল্প সাইট পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা ও প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ শেষে এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখানো হয়।

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে। নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বড় প্রকৌশল প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ থাকাই স্বাভাবিক। এসব চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করে ঝুঁকি কমিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিত টিমওয়ার্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঝুঁকি মোকাবিলা করে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তার বিষয়ে জানালে তা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি মাইলফলক প্রকল্প। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন বলেন, রাশিয়ান ফেডারেশন বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ান বিশেষজ্ঞদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব প্রশংসনীয়। বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও রাশিয়ান বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের মালিকানায় পরিচালিত হবে বলেও তিনি উলে­খ করেন।

পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রকল্পের কাজের চূড়ান্ত প্রস্তুতি, অগ্রগতি এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন এনপিসিবিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান। এ সময় প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রমের ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

ড. জায়েদুল হাসান জানান, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জ্বালানিবিহীন রিয়্যাক্টর (হট রান) অপারেশন চালানোর পরও পরিদর্শনে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি ধরা পড়েনি। নিরাপত্তাসংক্রান্ত সব কার্যকরী পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তাই অচিরেই রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোড করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমারসহ প্রকল্পে কর্মরত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *