👁 259 Views

বগুড়ার বিএনপি নেতা হেনার মেয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল কলিজায় কাপুনি ধরার মত একটি লেখুনি

বগুড়ার বিএনপি নেতা হেনার মেয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল

আব্বু……
তুমি জানো আমি কখনোই চাইনি তুমি রাজনীতি কন্টিনিউ করো। এবারে নির্বাচনের পর আমি তোমাকে বারংবার বলেছি এটা খালেদা জিয়ার বিএনপি না, তুমি এখানে মান সম্মান নিয়ে টিকে থাকতে পারবানা…

যেখানে আমার জমিদার দাদার একেক পর এক জমি বিক্রি করে তুমি পার্টির পেছনে ঢেলেছ অথচ মাস শেষে আমাদের বাসায় চাল আসত নানুর বাসা থেকে…

পেপারের বিল বকেয়া থাকত মাসের পর মাস,অথচ তুমি তখন প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার আর আমার দাদার সহায় সম্পত্তি নেয়াতই কম ছিল না…

৯৬-৯৭ এর উত্তাল সময়গুলো, তুমি ততকালীন রানিং প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনাকে বগুড়ায় ঢুকতে দাওনি…আমার মনে আছে আমাকে আর আম্মুকে লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে ককটেল ছোঁড়া হয়…

পরিস্থিতি কন্ট্রোল করতে একটাই উপায় ছিল, তোমাকে জেলে ভরা, সবাই জানে হেনাকে জেলে ভরলেই বগুড়া ঠান্ডা, মনে আছে আব্বু তুমি যেদিন জেল থেকে বের হলে এক পোটলা মশা মেরে এনেছিলে,এনে বাকি নেতাদের দিকে ছুঁড়ে মেরেছিলে কারন তোমাকে ধরার সাথে সাথেই বাকি সব আন্দোলন ফেলে ডুবকি দিয়েছিল, আমার এখনো মনে আছে সেই বিশাল কালো পলিথিনের পোটলা….

তোমার তুমুল জনপ্রিয়তা তোমার কাল হতে থাকল। যারা আমার দাদিবাড়িতে তোমার প্যান্ট শার্ট পরে মানুষ এরাই হিংসায় জ্বলতে লাগল, কিভাবে তোমাকে ডিফেম করা যায়, কত কান পড়া দেয়া যায় ম্যাডাম জিয়া পর্যন্ত। আলহামদুলিল্লাহ উনি বিচক্ষন ছিলেন, তোমাকে ডিফেন্ড করে গেছেন প্রকাশ্যে এবং আড়ালে…

তোমার বয়স বাড়ল, জনপ্রিয়তাও এবং শত্রুতাও। খুব অবাক লাগে তোমার বদনাম করে শুধু তোমার দলের কতিপয় লোকজন, বাকি সাধারন জনগনের কাছে তোমার ইমেজ এতটাই পরিস্কার ছিল যে বুদ্ধি হবার পর থেকে আমি কার মেয়ে কখনো কোথাও বলতাম না, এড়িয়ে যেতাম….যেমনটা আজও…চাইনি হেনার মেয়ে হিসেবে এক্সট্রা কোন ফেভার পেতে…

২০০৯-২০১৯ টানা ১০ বছর আওয়ামী লীগের আমলেও অস্বাভাবিক রক সং্খ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে তুমি ২ বার বগুড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হলে।

আমি অবাক হতাম লীগের লোকজন এসে যখন বলত ভাই আমাকে চিনবেন না, আমি লীগ করি কিন্তু আপনার বক্তব্য শোনার জন্য এখানে এসেছি, আমি ভোট আপনাকেই দেব।

অথবা,ভাই আমি জামাত করি কিন্তু ভোট আপনাকে দেব…..

হিংসুকরা আরও জ্বলে উঠল, কানপড়া দিল,

“হেনা লীগ আর জামাতের সাথে আঁতাত করে চলে”

আমি অবাক হয়ে যাই যখন নেই বলা নেই কওয়া নেই এলাকার লীগের নেতা এসে আম্মুকে বলল,

“আপা, আমি কেন্দ্র পাহারা দিব, ভাইকে বলবেন কোন টেনশন নাই”

একটা মানুষ কতটা জনপ্রিয় হলে দল মতের উর্ধ্বে উঠে যেতে পারে এটা তাদের মাথায় ধরবেনা যারা কখনো সেই গ্রহনযোগ্যতা পায়নি।

ভিন্ন দলের সাপোর্টাররা তোমার বক্তব্য শোনার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করত…

আমার মনে আছে তোমার নির্বাচন করার জন্য আম্মু তার পৈত্রিক জায়গা বিক্রি করে ২৮ লাখ টাকা দিয়েছিল। অথচ সেই ১০ বছরে না আম্মুর না আমার না তোমার কোন ব্যাংক ব্যালেন্স, সম্পদ বা গয়নাগাটি বেড়েছে…

৩য় বার নির্বাচনের সময় দলীয় সিদ্ধান্ত হল বিএনপি উপজেলা নির্বাচন করবেনা, তুমুল জনপ্রিয়তা আর নিশ্চিত বিজয় জেনেও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তুমি যাওনি। লোকজন হাতে পায়ে ধরেও তোমাকে সতন্ত্র থেকে নির্বাচনের জন্য রাজী করতে পারেনি।

হাসিনার অত্য চা র বাড়ল তুমি টার্মের ভেতরে জেলে গেলে, কানপড়া দেয়া হল

“ইচ্ছা করে ধরা দিসে”

এরপর তুমি আরও ২ বার জেলে গেলে। দিনের পর দিন তুমি খেতে পারতেনা, বাইরের শুকনা খবারও ওরা দিতে দেয়নি,একবার জেলে মাইনর হার্ট এটাক হয়। জেল থেকে বের হয়ে পার্টির প্রোগ্রামে বগুড়া টু রাজশাহী লং মার্চে গিয়ে মেজর হার্ট এটাক।

আল্লাহ তোমাকে বাঁচালেন। ডাক্তার আর পরিবার পরিজনের নিষেধ সত্ত্বেও তুমি পলিটিক্যাল প্রোগ্রামগুলো করে গেলে….

২০২৪ এর জুলাইয়ে তোমাকে ধরা হল যখন হাসিনা বিটিভিতে তোমার নাম নিল। এটাও কানপড়া দিল, “ইচ্ছা করে ধরা দিসে”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে এসে যখন বগুড়ায় ধমকে গেছে তোমাকে কেন এখনো আস্ত রাখা হয়েছে….

আমার মনে আছে তোমার রিমান্ড মঞ্জুর হবার পর পুলিশ তোমাকে রিমান্ডে নিচ্ছিল না, আমি বার বার জিজ্ঞেস করছিলাম রিমান্ডে কবে নিবেন….

পরে জেনেছি সেই পুলিশ সদস্যরা তোমার কাছে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় বলেছিল,

“ভাই দোয়া করেন গভর্মেন্ট যেন পড়ে যায়, এই গভর্মেন্ট যদি না পড়ে রিমান্ডে আপনাকে….”

পাচাটারা মেরুদন্ডহীনরা কখনো বুঝবেনা পুলিশও কাঁদতে পারে একটা মানুষের জন্য।কারন ওরা তো গর্তবাসী….না আছে আন্দোলনে না আছে ত্যাগে, সেটিং, চাঁদাবাজী, পা চাটা আর কন্সপিরেসি করে তাদের দিন যায় আর যখন প্রয়োজন পড়ে হাতে পায়ে ধরে তোমাকে নিয়ে যায়।

এরপর আসল ৫ আগষ্ট। এরা শুরু করল নতুন কাহিনী যেটা জীবনেও আমরা শুনিনি। উপরতলায় এরা খবর পাঠায় তুমি নাকি ২ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছো। অথচ ওই সময়ে তোমার ব্যাংকে ১১ লাখ টাকা লোন, আমি মজা করে তোমাকে বলেছিলাম

“আব্বু ২ কোটি টাকা নিসো ভালো কথা , ব্যাংক লোনটা পরিশোধ করলেই পারতা”

এই কথা বলে আমি আর তুমি সেই কী হাসি!

সেই লোন কয়েক মাস আগে তোমার ফার্ম টা বিক্রি করে পরিশোধ করা হল।

তুমি হয়তো বুঝতে পারোনি এই নির্লিপ্ততা একদিন কাল হবে….

এই যে পার্টিতে কুটনামি করে তোমার স্থানীয় পদগুলো স্থগিত রাখা হয়েছে, তোমাকে লোকে হাজার বার বলেছে, যান গিয়ে হাই কমান্ডের সাথে কথা বলেন ,এর সাথে বসেন ওর সাথে বসেন…তুমি বলেছ,

“মরে গেলেও না, আমি কোন পদের জন্য কারো কাছে ধর্না দিতে পারবোনা”

এরা পার্টি অফিসে আলোচনা করে আব্বু জানো,

“ওর কোন পদ নাই, তবুও ওর কাছে এত লোক যায় কেন?”

ওরা বোঝেনা ওরা দেখেনি ওই অন্ধ অশীতিপর বুড়িকে যে তোমার হার্ট এটাকের কথা শুনে গ্রাম থেকে কচু ঘেচু নিয়ে হাতড়াতে হাতড়াতে বাড়ির সামনে এসে বসে থাকত,

“হামার বা-ক দেকপার আচ্চি, হামার বা– অসুস্থ”

অথচ তুমি উপজেলা চেয়ারম্যান নেই ২০১৯ থেকে

হার্টের মেজর আর্টারিতে ব্লক আর ৪৫% ef নিয়ে এই নির্বাচনে তুমি যা খেটেছ কোন সুস্থ মানুষ হলেও কোন কার্ডিয়াক ইভেন্ট হয়ে যেত।

অথচ দেখ বেইমানের দলের অবস্থা, এমপিদের শপথের দিন তোমাকে না জানিয়েই সবাই ঢাকার দিকে রওনা দেয়। এই অপমান তুমি নিতে পারোনি, প্রচন্ড কষ্টে অবিশ্বাস আর অপমানে তুমি শুধু আম্মুকে বলেছিলে,

“গতবার আমার থেকে পাস নিয়ে যেতে হয়েছে, ২৫ টা পাস ছিল আমার কাছে, এরা সবাই গেল আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করলোনা?”

তোমায় ৩য় কার্ডিয়াক ইভেন্ট হয় সেদিন। কী আশ্চর্য ২০-২৫% ব্লক নিয়ে কেউ কী পরিমান মানসিক কষ্ট পেলে এই অবস্থা হতে পারে!

২ সপ্তাহও হয়নি। তোমাকে জোর করে ডেকে ডেকে প্রোগ্রামে নিয়ে যায়। তোমার শরীর খারাপ। অথচ কী জোরাজুরি। তুমিও সরল মনে যাও অথচ এই শয়তানগুলোর প্ল্যান কত নিখুঁত!

তুমি যখন ভীড়ের মধ্যে সবার যায়গা হওয়া নিশ্চিত করছিলে তখন ৩য় শ্রেনীর এক বেয়াদব তুমুল মিসবিহেভ করে তোমার সাথে তুমি তখনো নম্রভাবে হাসিমুখে কথা বলছ আর দুই পাচাটা শয়তান হাসছে আর সবচেয়ে মেরুদন্ডহীন লোকটা যার সব সামলানোর কথা সে পেছন দিয়ে সুড়সুড় করে বের হয়ে যাচ্ছে। তুমি লাঞ্চিত হলে। আমার বাবা আলী আজগর তালুকদার হেনা, যাকে ম্যাডাম জিয়া লোকজনকে ডেকে বলতেন, “একে চেন? হাসিনাকে ও বগুড়ায় ঢুকতে দেয়নি”

যেই মানুষ তার জীবন যৌবন অর্থ সম্পদ পরিবার সবকিছু এই পার্টির পেছনে ব্যায় করেছে তাকে একজন ৩য় শ্রেনীর লোক দ্বারা অপমানিত করা হল।

গত ৩ দিন ধরে আমার চোখের পানি থামছেনা। এর মধ্যে দেখি ফেসবুকে একজন এই ছবিটা পোস্ট দিয়েছে। পার্টির কোন নির্বাচনে জয়ের পর তোমাকে নিয়ে দলের লোকজনের উল্লাস। আমি আর নিতে পারিন আব্বু।

তোমার প্রতি জেল জুলুম দেখেছি কিন্তু তোমাকে অপমানিত হতে দেখিনি। যেদিন র‍্যাব বিজিবি প্ল্যাটুন এসে পুরো এলাকা ব্লক করে তোমাকে এরেস্ট করেছে ওইদিনও আমার আব্বুকে আমরা মাথা উঁচু করে বের হতে দেখেছি……

সেই বাবার এই অপমান দেখতে হল, সহ্য করতে হল শুধু এই নোংরা রাজনীতির জন্য!

আমি জানিনা আমার এই পোস্ট কতদূর পৌঁছাবে, তবে আমি Tarique Rahman এর কাছে অনুরোধ করব আমার আব্বাকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য থেকে সসম্মানে অব্যাহতি দেয়া হোক। আজ আপনার আম্মা বেঁচে থাকলে আমার বাবাকে এভাবে অপমানিত হতে হতনা। দলীয় প্রধান হিসেবে আমি আপনার কাছে বিচার দাবি করে গেলাম। যদি বিচার পাই তো আলহামদুলিল্লাহ নইলে প্রতি নামাজে আমি এই ঘটনার সাথে সংস্লিষ্ট প্রত্যেকের প্রতি বদদোয়া করে যাব ইনশাআল্লাহ।

ফেসবুক থেকে সংগৃহিত

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *